সাধারণত দিনে দুইবার ত্বকের যত্ন নেয়া উচিত, দিনে ও রাতে। কিন্তু পেশাগত কারণে দিনের একটা লম্বা সময় বাড়ির বাইরে থাকেন নারীরা। এই সময়টাতে প্রায় সবাই এড়িয়ে চলেন স্কিন কেয়ার। অথচ অফিস করলেও একটু সময় বের করে নিজের স্কিনটার বেসিক কেয়ার কিন্তু করাই যায়।

চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক অফিসে থেকেও কীভাবে ঝটপট করে নেয়া যাবে বেসিক স্কিন কেয়ার।

সঠিক স্কিন কেয়ারের ধাপ

অফিস হোক কিংবা বাসা, স্কিন কেয়ারের রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ। কারণ অফিসে ঝটপট বেসিক স্কিন কেয়ারের আগে বেসিক স্কিন কেয়ারের ব্যপারে জানাটা জরুরি।

দিনের বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন

১. ক্লেনজিং ( স্কিনে মেকআপ রিলেটেড প্রোডাক্ট ব্যবহার করা থাকলে ডাবল ক্লেনজিং মাস্ট)

২. এক্সফোলিয়েশন ( সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ বার)

৩. টোনিং ( দিনে এবং রাতে ক্লেনজিং এর পর মাস্ট)

৪. ময়েশ্চারাইজিং

৫. সান প্রোটেকশন ( দিনের বেলা রি-অ্যাপ্লাই মাস্ট)

৬. ফেইস মাস্ক বা প্যাক (সাপ্তাহিক স্কিন কেয়ার রুটিনে ফেইস মাস্ক বা প্যাক রাখুন)

৭. সিরাম অ্যাপ্লাই (বিশ বছর বয়সের পর থেকে সমস্যা অনুযায়ী সিরাম অ্যাপ্লাই করা ভাল)

ব্যাগে যা রাখবেন

অফিসে বসে বেসিক স্কিন কেয়ারের জন্যে জাস্ট কয়েকটি প্রোডাক্ট ব্যাগে রাখলেই যথেষ্ট। যেমন,

১. স্কিনের ধরণ অনুযায়ী একটি ফেইসওয়াশ

২. ময়েশ্চারাইজার

৩. সানস্ক্রিন

৪. লিপবাম

অফিসে স্কিন কেয়ারের ধাপ

অফিসে আসার পর পর স্কিন কেয়ারের তেমন একটা প্রয়োজন না হলেও একটা নির্দিষ্ট সময় পর ফেইস ডিহাইড্রেটেড ফিল হয়। এবং সানস্ক্রিনও রি-অ্যাপ্লাই করার সময় হয়ে যায়। তাই, বেসিক স্কিন কেয়ারের জন্যে লাঞ্চ এর পর পরের সময়টাই বেস্ট।

১. লাঞ্চের পর ফেইসওয়াশ

আপনি যদি বের হওয়ার সময় এসপিএফ (SPF) ৩০ যুক্ত কোন সানস্ক্রিন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে, হিসাব অনুযায়ী ৫ ঘণ্টা পর এর স্কিনকে প্রটেক্ট করার ক্ষমতা কমে আসবে। তাই, ৫ ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন রি-অ্যাপ্লাই করতে হবে। কিন্তু সানস্ক্রিন রি-অ্যাপ্লাই করার আগে মুখটা অবশ্যই ফেইসওয়াশ দিয়ে ভালভাবে ক্লিন করে নিতে হবে। কারণ, এতে মুখ পুনরায় স্কিন কেয়ারের জন্যে রেডি হবে।

২. স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখতে ময়েশ্চারাইজার মাস্ট

ময়েশ্চারাইজারের প্রথম কাজই হলো, স্কিন ড্রাই হয়ে এলে তাতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করা। সেইসঙ্গে স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখা। তাই, মুখটা ভালভাবে ফেইসওয়াশ দিয়ে ক্লিন করার পর পরই একটা ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করে নিতে হবে। অর্থাৎ, ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজনীয়তা সকল স্কিনের জন্যেই অপরিহার্য। তবে, ড্রাই স্কিনের জন্যে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। একারণেই অফিসে বেসিক স্কিন কেয়ারে একটি ময়েশ্চারাইজার রাখা মাস্ট।

৩. দিনের বেলা সানস্ক্রিন রি-অ্যাপ্লাই করতে ভুলবেন না

অফিসে থাকলেও সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করে নিতে হবে। একটি ভাল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পর পরই স্কিন টাইপ অনুযায়ী মুখে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করে নিন। কারণ দিনের বেলায় আপনি যেখানেই থাকেন সূর্যের আলো কিন্তু কোনো না কোনোভাবে আপনাকে স্পর্শ করছেই। তাই দিনের বেলায় আপনি বাইরে থাকুন বা বাসার ভেতরে বা অফিসে, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা আবশ্যক।

৪. ঠোঁটের জন্য লিপবাম

অফিসে কম বেশি আমরা সবাই ঠোঁটে কিছুনা কিছু অ্যাপ্লাই করেই থাকি। ফেইসে কিছু ব্যবহার না করলেও লিপস্টিক দেয়া হয়ই। অনেক সময় সারাদিন ঠোঁটে লিপস্টিক রাখার ফলে লিপস্টিক ক্র্যাক করে আবার ঠোঁট ফাটার মত সমস্যাও দেখা দেয়। তাই, ফেইস ক্লিন করার পর ঠোঁটকে ময়েশ্চারাইজড এবং সফট রাখতে একটি লিপবাম অ্যাপ্লাই করে নিন। এরপর চাইলে আবার লিপস্টিক অ্যাপ্লাই করে নিতে পারেন।