জিমে স্টেরয়েড ব্যবহারকারীর কথা উঠতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে পেশিবহুল কোনো পুরুষের ছবি। কিন্তু সেই দৃশ্যপট এখন বদলে যাচ্ছে। স্টেরয়েড গ্রহণকারীর দলে দ্রুত যোগ হচ্ছে নারীরা।

গবেষণা বলছে, আন্তর্জাতিকভাবে নারীদের স্টেরয়েড গ্রহণের হার বাড়ছে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক দশকে নারীদের মধ্যে স্টেরয়েড ব্যবহারের হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। বর্তমান সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের প্রায় ৪ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার অ্যানাবলিক স্টেরয়েড গ্রহণ করেন। নারী বডিবিল্ডারদের মধ্যে এ হার আরো বেশি। প্রায় প্রতি ছয়জনের একজন স্টেরয়েড নেন।

কিন্তু শঙ্কার বিষয় হলো, স্টেরয়েড ব্যবহারের এ প্রবণতা যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।

কেন বাড়ছে নারীদের স্টেরয়েড ব্যবহার?

কারণগুলো জটিল হলেও তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—

খেলাধুলায় উত্থান: ২০২০ সালের পর থেকে নারীদের পাওয়ারলিফটিং, বডিবিল্ডিং ও অলিম্পিক ওয়েটলিফটিংয়ে অংশগ্রহণ দ্রুত বেড়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্স: ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবে বিপুল ফিটফ্লুয়েন্সার-এর দেখা মেলে। যারা নিজেদের নাটকীয় শরীর পরিবর্তনের গল্প বলেন। অনেক নারী তাদের অনুসরণ করেন ব্যায়াম বা খাদ্যতালিকার পরামর্শের জন্য। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা ঢুকে পড়েন স্টেরয়েডের ফাঁদে।

পরিচিতজনের প্রভাব: অস্ট্রেলিয়া ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক নারী পরিচিত পুরুষ বন্ধু, সঙ্গী বা কোচের পরামর্শে স্টেরয়েড ব্যবহার শুরু করেন।

ঝুঁকিগুলো গুরুতর, অনেকটাই স্থায়ী

স্টেরয়েড সবার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্থায়ী হতে পারে—

  • মুখে বা শরীরে অস্বাভাবিক লোম গজানো
  • কণ্ঠ ভারী হয়ে যাওয়া
  • ঋতুস্রাব অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমে যাওয়া
  • ব্রেস্ট টিস্যু কমে যাওয়া
  • ব্রণ, চুল পড়া
  • ক্লিটোরিস বড় হয়ে যাওয়া
  • উদ্বেগ, রাগ, মুড পরিবর্তনের মতো মানসিক প্রভাব

আরো ভয়ঙ্কর বিষয় হলো—গোপন ল্যাবের অনেক স্টেরয়েডে সীসা, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম ধাতু পাওয়া গেছে। যেগুলো ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। নারী স্টেরয়েড ব্যবহারকারীদের নিয়ে গবেষণা কম হওয়ায় তারা অনেক সময় ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য পান না। সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে তারা চিকিৎসা সেবা নিতে দেরি করেন, ফলে জটিলতার সম্ভাবনা আরো বাড়ে।

উত্তরণের উপায়

কড়া নিয়ম করে বা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব না। বরং নারীদের জন্য উপযোগী স্বাস্থ্যসচেতনতা জরুরি। বর্তমানে অনলাইনে থাকা বেশিরভাগ তথ্য পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য। নারীদের শরীর ও ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্যপ্রকাশ জরুরি। সঠিক তথ্য পৌঁছাতে নারীদের ব্যবহৃত সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোয় সচেতনতামূলক প্রচার দরকার। নারীরা সামাজিক অসম্মানের ভয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পাল্টাতে হবে চিকিৎসা ব্যবস্থাও।