মানুষ যত আধুনিক হচ্ছে তাদের জীবনযাপন ততই চেয়ার-টেবিলের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। আর অফিস মানে কেবল ডেস্ক, কম্পিউটার আর অসংখ্য ইমেইল নয়—সঙ্গে আছে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার দক্ষতা। প্রতিদিন গড়ে আট থেকে দশ ঘণ্টা একই চেয়ারে বসে থাকার অভ্যাস আমাদের শরীরের ওপর বিরাট প্রভাব ফেলে। তাই অফিসের পরিবেশে আরামদায়ক ও সঠিকভাবে ডিজাইন করা চেয়ার কেবল বিলাসিতা নয়, বরং কর্মীদের সুস্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতার জন্য এক অপরিহার্য উপকরণ।
অসুবিধাজনক চেয়ারে বসলে পিঠে ব্যথা, ঘাড়ে টান, কোমরে ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এসব সমস্যা ক্রনিক ব্যথায় রূপ নিতে পারে। এছাড়া বসার অস্বস্তি কাজে আমাদের মনোযোগ নষ্ট করে। গবেষণায় দেখা গেছে, আরামদায়ক চেয়ার ব্যবহারে কর্মদক্ষতা বাড়ে।
স্বাস্থ্যসম্মত চেয়ারের গঠন যেমন হবে-
অফিসে চেয়ারের সিটের উচ্চতা টেবিলের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে নেয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পিঠের ব্যথা কমাতে চেয়ারে বসার জায়গাটা প্রশস্ত হওয়া জরুরি। চেয়ারের আদর্শ সিট হবে ১৭ থেকে ২০ ইঞ্চি প্রশস্ত। চেয়ার এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন পিঠের নিচের অংশ তার সঙ্গে লেগে থাকে। এতে স্পাইনের পশ্চার ঠিক থাকে। যেহেতু লম্বা সময় বসে থাকতে হয় তাই প্যাডেড ব্যাক সাইড হলে বসার জন্য আরামদায়ক হয়। অফিসে হাত ও কাঁধের বিশ্রামের জন্য হাতলযুক্ত চেয়ার ব্যবহার করা উচিত।
স্বাস্থ্যসম্মত চেয়ার নিশ্চিত করতে হলে ব্যাক সাপোর্ট, সিটের প্রশস্ততা, আরামদায়ক, স্পাইনের পশ্চার ঠিক রাখে কি না, এসব ব্যাপারে লক্ষ রাখতে হবে। একটি ভালো অফিস চেয়ার প্রথমে ব্যয়বহুল মনে হলেও এটি আসলে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ।









