বাংলাদেশে শীত মৌসুম দীর্ঘ না হলেও এর তীব্রতা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি সময়কালে ভোর ও রাতের ঠাণ্ডা, কুয়াশা আর হিমেল বাতাস নগর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলের মানুষকে ভোগায়। এ সময়গুলোয় শীত মোকাবেলায় ঘরোয়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। গিজার, মাইক্রোওভেন, ইলেকট্রিক কেটলি ও রুম হিটার এখন মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে শহুরে নিম্নআয়ের পরিবারেও পরিচিত নাম।

গিজার:

শীতকালে সবচেয়ে বড় ভোগান্তি হয় ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করা নিয়ে। এ সমস্যা সমাধানে শহরাঞ্চলে গিজারের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ইলেকট্রিক ও গ্যাস—দুই ধরনের গিজারই এখন বাজারে তুলনামূলক সহজলভ্য।

images (1)

ওয়ালটন, ভিশন, মিয়াকোর ৩০ লিটার গিজারের দাম ১৪ থেকে ১৬ হাজারের মধ্যে। আর ৪৫ থেকে ৬০ লিটার ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো দেশে ইনস্ট্যান্ট গিজার তুলনামূলক নিরাপদ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। তবে ভুল তার সংযোগ, নিম্নমানের যন্ত্র কিংবা আর্থিং না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। প্রতি শীতে গিজার ব্যবহারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার খবরও গণমাধ্যমে আসে।

মাইক্রোওভেন:

শীতে ঠাণ্ডা খাবার এড়িয়ে চলতে মাইক্রোওভেনের জুড়ি মেলা ভার। অফিসফেরত বা কর্মব্যস্ত নগরজীবনে মাইক্রোওভেন হয়ে উঠেছে সময় বাঁচানোর কার্যকর যন্ত্র। বোতাম চাপলেই ভাত, তরকারি বা দুধ গরম করা। বাংলাদেশে বর্তমানে শুধু অভিজাত নয়, মধ্যবিত্ত পরিবারেও মাইক্রোওভেনের ব্যবহার বাড়ছে।

1-400x472

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাইক্রোওভেন যাওয়া যায়। এদের দামও ব্র্যান্ডভেদে ভিন্ন, তবে ১৬-৩৫ হাজার টাকার মধ্যে। যদিও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, প্লাস্টিক বা অনুপযুক্ত পাত্রে খাবার গরম করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ইলেকট্রিক ফ্লাক্স/কেটলি:

চা, কফি, লেবু পানি কিংবা গরম পানি সবকিছুর জন্য একটাই সমাধান- ইলেকট্রিক কেটলি বা ফ্লাক্স। কম দাম, সহজ ব্যবহারবিধি ও বহনযোগ্য হওয়ার কারণে ছাত্রাবাস, মেস, অফিস ও ছোট পরিবারে এর ব্যবহার ব্যাপক। শীতকালে গরম পানি পান, গোসলের পানি গরম কিংবা অসুস্থ মানুষের জন্য উষ্ণ পানীয় তৈরিতে কেটলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

1-8-l-stainless-steel-electric-kettle-1700560713-7178118

বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক কেটলির দাম দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা।

তবে দীর্ঘ সময় খালি কেটলি অন রাখলে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে বলে বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

রুম হিটার:

বাংলাদেশে রুম হিটার এখনো পুরোপুরি ঘরে ঘরে পৌঁছায়নি, তবে শহুরে এলাকায় এর ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য রাতে রুম হিটার স্বস্তি দেয়।

ফ্যান হিটার ও কোয়ার্টজ হিটার—এই দুই ধরনের হিটার বেশি ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব হিটারের দাম ৩ হাজার ৬শ’ টাকা থেকে ৭ হাজার।

OIP (1)

তবে রুম হিটার ব্যবহারে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিদ্যুৎ খরচ ও অগ্নিঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হিটার ব্যবহারকালে জানালায় সামান্য ফাঁক রাখা এবং ঘুমানোর সময় হিটার বন্ধ রাখা উচিত।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা

বাংলাদেশে শীতকালেই বিদ্যুতের ওপর চাপ বাড়ে। একসঙ্গে গিজার, হিটার ও কেটলি ব্যবহারে অনেক এলাকায় লোডশেডিং বা লাইনের সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি নিম্নমানের যন্ত্র ও অদক্ষ সংযোগ থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।

এক্ষত্রে বিদ্যুৎ ও ফায়ার সার্ভিস সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ—

  • মানসম্মত যন্ত্র ব্যবহার
  • আলাদা সুইচ ও সার্কিট ব্রেকার
  • ভেজা হাতে সুইচ না ধরা