ডায়েট বা ওজন কমানোর কথা ভাবলেই দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে বিস্বাদ সব সেদ্ধ খাবার আর পছন্দের চকোলেট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার থেকে বিচ্ছেদ। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, পুষ্টির চেয়ে তুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শরীর কতটা পুষ্টি পাচ্ছে, তার চেয়েও বড় বিষয় হলো খাওয়ার সময় মস্তিষ্ক কী ভাবছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী আলিয়া ক্রাম তার গবেষণায় দুইদল মানুষকে একই মানের মিল্কশেক দিয়েছিলেন, কিন্তু লেবেলে ছিল ভিন্নতা। এক দলকে বলা হয়েছিল এটি ৬২০ ক্যালরির একটি ‘অত্যন্ত মুখরোচক’ পানীয়, আর অন্য দল জানতো তাদের পানীয়টি মাত্র ১৪০ ক্যালরির একটি ‘ডায়েট’ শেক।

ফলাফলে দেখা গেল, যারা পানীয়টিকে মুখরোচক ভেবে পান করেছিলেন, তাদের শরীরে ক্ষুধার হরমোন ‘ঘ্রেলিন’ দ্রুত কমে গেছে। অন্যদিকে, যারা এটিকে ‘হেলদি’ বা কম ক্যালরির ভেবেছিলেন, তাদের শরীরে এ হরমোনের পতন ছিল অত্যন্ত ধীর। অর্থাৎ, মস্তিষ্ক যদি মনে করে পেট ভরে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু কিছু খাওয়া হয়েছে তবে শরীরও সেই অনুযায়ী তৃপ্তির সংকেত পাঠায়।

p0ngbmkg.jpg

গবেষণায় দেখা গেছে, যখনই কোনো খাবারের গায়ে ‘লো-ফ্যাট’ বা ‘হেলদি’ লেখা থাকে, অবচেতন মন ধরে নেয় খাবারটি তৃপ্তিদায়ক হবে না। ফলে সে খাবার খাওয়ার পরও ক্ষুধা মেটে না এবং পরবর্তীতে মানুষ বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। একে বলা হয় ‘রেস্ট্রেইন্ট মাইন্ডসেট’ বা বঞ্চনার মানসিকতা। চরম কড়াকড়ি বা বঞ্চনার বোধ মানুষের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে, যা ওজন কমানোর পথে বড় বাধা।

ওজন কমানোর পথে আরো বিপত্তি প্রক্রিয়াজাত খাবার। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাশলে গিয়ারহার্ডেল মতে, আল্ট্রা-প্রসেসড বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো ‘হেভি মেটাল কনসার্টের’ মতো, আর ফল বা সবজির মতো প্রাকৃতিক খাবার হচ্ছে ‘ধ্রুপদী সুর’। ‘হেভি মেটাল কনসার্ট’ যেমন মোনুষের কানে ‘ধ্রুপদী সুর’ পৌঁছাতেই দেয় না ঠিক সেভাবে প্রক্রিয়াজাত খাবার মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমকে দখল করে। তাই মানুষ বারবার অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।

সমাধান

ওজন কমানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিশেষজ্ঞরা এখন ‘মাইন্ডসেট অফ ইনডালজেন্স’ বা তৃপ্তিদায়ক মানসিকতার ওপর জোর দিচ্ছেন।

  • খাবারকে শুধু ক্যালরি বা পুষ্টির মাপকাঠিতে না দেখে তার স্বাদ উপভোগ করতে হবে।
  • পছন্দের কোনো খাবার বা মিষ্টি থেকে নিজেকে পুরোপুরি বঞ্চিত না করে মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণে প্রিয় খাবার উপভোগ করতে হবে। এটি মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
  • ‘ডায়েট’ বা ‘লাইট’ ফুড না বলে খাবারকে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হিসেবে বর্ণনা করলে সেটি ওজন কমাতে বেশি সহায়ক হয়।
  • প্রোটিন, শাকসবজি ও ফলমূলের মতো প্রাকৃতিক খাবারের প্রতি আসক্তি তৈরি করতে হবে।

বিবিসি অবলম্বনে