বাংলাদেশে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ধর্মনিরপেক্ষ স্থাপত্য অপ্রতুল হলেও প্রারম্ভকালীন স্থাপত্যের পর্যায়ভুক্ত আবাসস্থলগুলো নির্মাণে গাছের শাখা-প্রশাখা ও কাদা-মাটি ব্যবহূত হতো। আদি ঐতিহাসিক যুগে নানা অঞ্চলে নগরায়ণের চিত্র পাওয়া যায়। আদিকালের দুএকটি ব্যতিক্রম ছাড়া পরবর্তী সব নিদর্শনই নগরশৈলীর অন্তর্গত। নতুন আবিষ্কারের আলোকে সেই কালানুক্রম সংশোধন হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হয়। আধুনিক কালে সুদূর মার্কিন মুলুক ও ইউরোপ থেকে আসা আধুনিক স্থাপত্যবিদরা এ দেশে তাদের সেরা নির্মাণশৈলীর স্বাক্ষর রেখে গেছেন। সূচনা করে গেছেন পরিবেশবান্ধব ভাবকল্পনার সংমিশ্রণ।

১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার দক্ষিণ প্রান্তের আলীপুরে নির্মিত হেস্টিংসের বাড়িটি কলকাতা নগরীর সর্বপ্রাচীন প্রাসাদ। এটি ছিল বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নরের বাসভবন। ১৮০৩ সালে উদ্বোধনকৃত গভর্নমেন্ট হাউজটি জর্জিয়ান (আঠারো শতকের ইংলিশ স্থাপত্য) প্রাসাদের উত্কৃষ্ট উদাহরণ। এতে ব্রিটিশদের বণিক থেকে শাসক হিসেবে রূপান্তরের প্রতিফলন ঘটে। ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়েলেসলি সুপরিচিত ব্রিটিশ স্থপতি পরিবারের সদস্য ক্যাপ্টেন চার্লস ওয়াটকে এর নকশার দায়িত্ব দেন। আঠারো শতকের শেষ দিকের ব্রিটিশ স্থপতি রবার্ট অ্যাডাম কর্তৃক ১৭৫৯-১৭৭০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত ডার্বিশায়ারের কেডেলস্টোন হলের অনুকরণে বাংলার আবহাওয়ার সঙ্গে উপযোগী করে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সময়টি ছিল ভারতবর্ষে আধুনিক স্থাপত্যরীতিতে বিদেশী প্রভাবের প্রদোষকাল।

১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত মোগল আমলের পুরনো জমিদারিগুলোর পরিবর্তে একটি নতুন বিত্তবান অভিজাত শ্রেণীর সৃষ্টি করে। এদের বেশির ভাগই কলকাতায় বাস করতেন, কিন্তু গ্রামে তাদের জমিদারিতে সবারই একটি করে প্রাসাদ ছিল। এরপর দেখা যায় রাজা ও মহারাজা হিসেবে পরিচিত স্থানীয় সামন্ত ভূস্বামী ও জমিদাররা গ্রামাঞ্চলে ইউরোপীয় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্রাসাদতুল্য বাড়ি নির্মাণ করেন। এখান থেকেই এই সামন্ত প্রভুরা তাদের জমিদারি পরিচালনা করতেন। রাজশাহীর নিকটবর্তী এরূপ একটি বিশাল জমিদারি ছিল নাটোরে। বদান্যতার জন্য সুপরিচিত এই জমিদারির মালিক রানী ভবানী এখানে এরূপ একটি প্রাসাদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করেন। প্রধান প্রাসাদ ভবনটি বর্তমানে ডেপুটি কমিশনারের অফিস হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।

পাশ্চাত্য জীবন ধারায় অভ্যস্ত তত্কালীন জমিদারদের স্থাপত্যশিল্পেও এর প্রতিফলন ঘটে। তাদের স্থাপত্যশিল্পে পাশ্চাত্য ধারার ক্ল্যাসিক্যাল স্তম্ভ, উঁচু ড্রাম ও বিন্যস্ত জানালাসহ গম্বুজ, পেডিমেন্ট, অর্ধবৃত্তাকার রোমান খিলান, সিঁড়ি, প্রধান কেন্দ্রে হল ও একে ঘিরে অন্যান্য কক্ষ—এসব বৈশিষ্ট্যই প্রতিফলিত হয়। ১৮৫৭ সালের