করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় বিশ্বজুড়ে শতাধিক ভ্যাকসিন তৈরির প্রচেষ্টা চলছে। কোন ভ্যাকসিনটি বেশি কার্যকর এবং কবে নাগাদ সহজলভ্য হবে, তার দিকে তাকিয়ে আছে কোটি কোটি মানুষ। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো কয়েকটি উপায়ে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রস্তুত করতে নতুন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
অ্যাডেনোভাইরাস ভ্যাক্টর ভ্যাকসিন নামের নতুন এ পদ্ধতি ব্যবহার করে বর্তমানে ছয়টি সংস্থা কভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে আবার তিনটি ভ্যাকসিন প্রার্থী দুর্বল মানব অ্যাডিনোভাইরাসগুলোর ওপর নির্ভর করে, দুটি প্রাইমেট অ্যাডিনোভাইরাস এবং একটি হাম ভাইরাস ব্যবহার করে কার্যকর কভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে।
সর্দি-কাশির জন্য দায়ী যে অ্যাডেনোভাইরাস, তাকে ভেক্টর হিসেবে বেছে নেয়া হয়। এটা হালকা সর্দি-জ্বর সৃষ্টি করে তবে প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। কোষের অভ্যন্তরে ভাইরাল ভেক্টরগুলো সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের মতো একই আণবিক সিস্টেম আয়ত্ত করে এবং তার তিনটি মাত্রায় বিশ্বস্ততার সঙ্গে স্পাইক প্রোটিন তৈরি করে। এটা প্রাকৃতিক সংক্রমণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এটা শরীরের প্রতিরোধক্ষমতাকে প্ররোচিত করে, প্রদাহকে ট্রিগার করে এবং বি ও টি কোষে ছড়িয়ে দেয়। এ পদ্ধতির সুবিধা হলো এটা সহজ ও তুলনামূলক সস্তা। তবে এ পদ্ধতির সমস্যা হলো এগুলো বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে যায়, সাধারণ ঠাণ্ডা সৃষ্টি করে এবং কিছু মানব শরীর এ প্রতিরোধক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়।
মানব অ্যাডেনোভাইরাস ভেক্টর
চীনা ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থা ক্যানসিনো অ্যাডেনোভাইরাস সেরোটাইপ ৫ (অ্যাড৫) ব্যবহার করে কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের ফলাফল প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ৫০৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ২৬৬ জনের শরীরে অ্যাড৫ ভেক্টরটি উচ্চমানের প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করেছিল, তবে এটা প্রবীণ অংশগ্রহণকারীদের প্রতিরোধক্ষমতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে দিয়েছিল। ফলে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তাদের ভ্যাকসিনটি ভালোভাবে কাজ করবে না।
অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিন গবেষক নিকোলাই পেট্রোভস্কি বলেছেন, অ্যাডেনোভাইরাস ভেক্টরগুলোর সমস্যা হলো এটা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর এবং বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে বিভিন্ন স্তরের প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করবে। তবে এ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক বছর স্থায়ী হয়।
সিমিয়ান (বানর) অ্যাডেনোভাইরাস ভেক্টর
এটা নিকটতম একটি বিকল্প। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা একসঙ্গে মিলে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে তৈরি করা ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল পরিচালনা করছে। প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোয় এ ভ্যাকসিনটি অ্যান্টিবডি ও টি সেল প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। তবে এ ভ্যাকসিনে বড়দের তুলনায় শিশুরা দৃঢ় প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং এটা ভারতের মতো তরুণ জনসংখ্যার দেশগুলোতে বিশাল অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। এটা কিছু ক্ষেত্রে খুব দুর্বল এবং কিছু ক্ষেত্রে খুব শক্তিশালী, এমনকি বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে।
হামের ভেক্টর
গত আগস্টে ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে হামের ভেক্টরভিত্তিক কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের পরীক্ষার জন্য স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ শুরু করে। এটা আগে সার্স ও মার্সের জন্য ইঁদুরের শরীরে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এটা সার্স-কোভ-২-এর পূর্ণ দৈর্ঘ্যের স্পাইক প্রোটিন প্রকাশ করে। প্যারিসভিত্তিক পাস্তুর ইনস্টিটিউট এ পদ্ধতিতে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে।
দ্য সায়েন্টিস্ট





