১৯৭০-এর দশকে গিয়ে ভ্যাকসিন বিরোধিতার আধুনিক ঝড়টি সামনে এসেছিল প্রিটুসিস কিংবা হুপিং কাশি ভ্যাকিসনের সুরক্ষাজনিত উদ্বেগকে ঘিরে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে কয়েকটি সংগঠিত গ্রুপ অনেক দেশের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমকে ঘিরে বিরোধিতা শুরু করে। যেখানে যুক্তরাজ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালে অ্যান্ড্রু ওয়েকফিল্ড এবং তার সহকর্মীরা দ্য ল্যানসেটে এক কুখ্যাত ও প্রত্যাহারকৃত গবেষণা পত্রটি প্রকাশ করে। এরপর ২০১০ সালে দুর্ব্যবহারের কারণে ওয়েকফিল্ডের মেডিকেল রেজিস্টার কেড়ে নেয় দেশটির জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিল। তার প্রতারণামূলক কাজটি ১২ জন শিশুর মধ্যে অটিজম ও এমএমআর ভ্যাকসিনের (হাম, মাম্পস ও রুবেলার) না থাকা সম্পর্ককে উসকে দিয়েছিল। এ ঘটনা ওয়েকফিল্ডকে কুখ্যাতি এবং ভ্যাকসিনবিরোধী আন্দোলনকে গতি এনে দিয়েছিল। তিনি সে সময় বিশ্বব্যাপী ইমিউনাইজেশনের হারের পতনের কারণে শুরু হওয়া ভ্যাকিসন কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্দেহ পোষণকারী দলের শিরোমণিতে পরিণত হন।
বর্তমান মহামারীর প্রেক্ষাপটে ফের আলোচনায় এসেছেন ওয়েকফিল্ড। তাকে নিয়ে সাংবাদিক ব্রায়ান ডিয়ার লিখেছেন ‘দ্য ডক্টর হু ফ্লাডেড দ্য ওয়ার্ল্ড’
নামক একটি বই। বইটি সাহায্য করবে ১৯৯৮ সালের গবেষণার নৈতিক, অর্থনৈতিক ও পদ্ধতিগত অযোগ্যতাকে উন্মোচিত করতে। দুই দশকের বেশি সময় পর এসে ওয়েকফিল্ডের সেই সময়ের কাজের স্বরূপ উন্মোচিত করেছেন ডিয়ার। এখানে অবশ্য অনেক নতুন উপাদানও যোগ করা হয়েছে। যেখানে ওয়েকফিল্ডের পরিবার ও সহকর্মীদের সাক্ষাত্কারও অন্তর্ভুক্ত আছে। প্রশ্ন হচ্ছে, একজন ইংরেজ চিকিৎসক কীভাবে বৈশ্বিক অ্যান্টি-ভ্যাকসিন আন্দোলনের প্রধান মুখ হয়ে উঠলেন? ডিয়ার তুলে ধরেছেন তিনি নিজের অনুমানের প্রতি একটু বেশিই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ১৯৯৮ সালের সেই বিপর্যয় ডেকে আনা গবেষণার কারণে তার অন্য গবেষণা পত্রগুলো
আড়াল হয়ে গেছে। যেমন ল্যানসেটেই ১৯৯৫ সালে তিনি দাবি করেছিলেন যে হামের ভ্যাকসিন পেটের অসুখের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু সেগুলোও বেশ সমালোচিত হয়েছিল।
এ অননুমোদিত বায়োগ্রাফিটি ওয়েকফিল্ডের মতো আত্মবিধ্বংসী লোকদেরই গল্প। কারো কারো বিষয়টি বোধগম্য ছিল, যেমন সেসব অসুস্থ শিশুর বাবা-মা যারা মরিয়া হয়ে উত্তর খুঁজছেন। এছাড়া ভ্যাকসিনবিরোধী রাজনীতিবিদরাও এতে অন্তর্ভুক্ত আছেন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত এটি কেবল একটি বায়োগ্রাফির চেয়ে বেশি কিছু। কারণ যে সময় এটি আমাদের সামনে এসেছে তা খুবই স্পর্শকাতর। একদিকে কভিড-১৯-এর কার্যকর ভ্যাকসিনের জন্য অধীর অপেক্ষা, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান ভ্যাকসিনবিরোধী আন্দোলন। এমন সময়ে ডিয়ারের বইটি তাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
নেচার জার্নাল অবলম্বনে





