কভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঝড়ের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের দেশগুলো আবারো লকডাউনে যেতে শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রায় মাসখানেকের জন্য লকডাউনে গেছে ইংল্যান্ডও। মূলত সংক্রমণের গতি অপ্রতিরোধ্য রূপে বাড়তে শুরু করার পরিপ্রেক্ষিতেই দেখতে হয়েছে এ লকডাউন। ২১ সেপ্টেম্বর যখন সরকারের সায়েন্টিফিক উপদেষ্টা কমিটির পক্ষ থেকে লকডাউন প্রস্তাব করা হয়, তখন ইংল্যান্ডের কভিড কেস ছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার, যা এখন এসে তিন গুণ হয়েছে। এ হার কমাতে কঠোর বিধিনিষেধ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন অক্সফোর্ডের রোজালিন্ড ফ্রাংলিন ইনস্টিটিউটের প্রধান জেমস নাইস্মিথ।

নাইস্মিথের হিসাবমতে, আগের সপ্তাহগুলোতে যে সংক্রমণ সংঘটিত হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দুই-তিন সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিদিন  ৫০০ মৃত্যু দেখা যেতে পারে।  যেখানে ২ নভেম্বর সেটি ছিল গড়ে ১৪৪ জন। নাইস্মিথ বলেছেন, ক্রিসমাস পর্যন্ত ১ হাজার মৃত্যুর সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। যেখানে হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয়ে উঠবে এবং সবাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাবে না। তিনি বলেন, কেউ বলছে না লকডাউন ক্ষতিকর না, এটি দুর্দশা ও মৃত্যু ঘটাবে। আমরা জানি যে হতাশা ও বিচ্ছিন্নতা জীবন কেড়ে নেবে।  কোনো কোনো রোগে চিকিৎসা না হওয়া মানে মৃতের সংখ্যা বাড়বে।

কিন্তু এটাকে ফিরিয়ে আনা মানে মানুষকে এটা মেনে চলতে হবে, যা বসন্তের চেয়ে আরো গভীরভাবে মানতে হবে। এটা সহজ হবে যদি অন্ধকার টানেলে অন্য প্রান্তে আলো থাকে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, ভ্যাকসিন সেই আলোর সন্ধান দিতে পারে কিনা? সত্যি কথা হচ্ছে, মানুষকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য ভ্যাকসিন এককভাবে মোটেই যথেষ্ট না। যদিও এটি হচ্ছে হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছার একমাত্র প্রমাণিত উপায়। যখন দেশের জনসংখ্যার অধিকাংশ (৬০ শতাংশ) ইমিউন হয়ে যাবে তখন সংক্রমিত করার জন্য ভাইরাসের সামনে খুব সামান্য মানুষ রয়ে যাবে এবং ভাইরাস আর নতুন হোস্টের সন্ধান লাভ করতে পারবে না। ফলে ভাইরাসের মৃত্যু ঘটবে।

কিন্তু স্বল্প ইমিউনিটিসম্পন্ন জনগণের মাঝে যদি ভাইরাসকে ছড়াতে দেয়া হয়, যা করার কথা বলেছে গ্রেট ব্যারিংটন ঘোষণাসহ অন্যরা তা শেষ পর্যন্ত হাজারো মানুষকে হত্যা করবে। কিন্তু ভ্যাকসিন আসার আগে ভাইরাসের গতি রোধ করে সেই মানুষের অনেককেই বাঁচানো সম্ভব। পাশাপাশি সংক্রমণের মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটি পাওয়ার এ প্রচেষ্টা সামনের দিনগুলোতে ‘লং কভিড’-এ আক্রান্তের হারকেও অনেক বাড়িয়ে দেবে।

বছর শেষ হওয়ার আগেই আমরা জানতে পারব যে বড় স্কেলে ট্রায়ালে থাকা ১১টি ভ্যাকসিনের কতটা আসলে কাজ করে। অনেকগুলো এরই মধ্যে তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে দ্রুতগতিতে নিজেদের কাজ শেষ করার পথে আছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত একটি নথির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন টাস্ক ফোর্সের প্রধান কাটিয়ে বিংহাম একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। যেখানে আগামী বছরের ইস্টারের আগে ৫০ বছর বয়সের বেশি বয়স্কদের ভ্যাকসিন দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এরপর আসলে কী? যাদের দেয়া হবে তাদের ৭০ শতাংশের মধ্যে যদি ভ্যাকসিন কার্যকারিতা দেখায় এবং ভ্যাকসিন যদি ৭০ শতাংশ মানুষকে দেয়া যায় তবে সেটি বেশ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। এর অর্থ হচ্ছে জনগণের ৪৯ শতাংশ সুরক্ষিত থাকবে, বলেছেন ডেভিড সালিসবুরি। হার্ড ইমিউনিটির জন্য আরো বেশি মানুষের ইমিউন হওয়া প্রয়োজন। এমনকি এত মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়াও কঠিন। আবার প্রথমবার ভ্যাকসিন নেয়ার পর যদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তবে অনেকেই দ্বিতীয়বার ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী হবেন না।

দ্য গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত