সাত মিলিয়নের বেশি মানুষ সংক্রমিত এবং দুই লাখের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করার পরও অনেক আমেরিকান মাস্ক পরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, কারণ তারা মনেই করেন না নভেল করোনাভাইরাস নামে কিছু বাস্তবে আছে। আবার অনেকে ভাইরাসের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিশ্বাসী হয়েও নিজেদের অসুস্থ হওয়ার বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন না।
কীভাবে এটি ঘটেছে? রাজনৈতিক অসুস্থ চিন্তাকে মুহূর্তের জন্য এক পাশে সরিয়ে রাখলেও ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বার্তা যা গ্রীষ্মজুড়ে স্থায়ী ছিল তা অত্যন্ত পরিশ্রমী তথ্য অনুসন্ধানী ব্যক্তিকেও ধাঁধার মাঝে ফেলে দিতে পারে। বিশ্বাসযোগ্য সংগঠন থেকে যে প্রস্তাব এসেছে তা পেন্ডুলামের মতো এদিক-সেদিক দোল খেয়েছে। এটা শুনতে অনেকটা এ রকম : করোনাভাইরাস
আমেরিকার জন্য হুমকি নয়। সিডিসি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করেছে। পৃষ্ঠতল স্পর্শ করবেন না। আপনার মাস্কের প্রয়োজন নেই। সিডিসি ভ্রমণকারীদের জন্য কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে না। আসলে আপনার মাস্ক পরতে হবে এবং পৃষ্ঠতল তেমন ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
এটা অবাক হওয়ার মতো কোনো বিষয় না যে জনসাধারণ বিভক্ত হয়ে পড়েছে কীভাবে সামষ্টিকভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে মহামারীর মোকাবেলা করবে এবং সেরে উঠবে তা নিয়ে। তার পরও সেসব মানুষ যারা কভিড-১৯-কে সত্যিকার অর্থে উদ্বেগের কারণ বলে মনে করেন, সেখানেও মহামারী সবচেয়ে সহজতম সমাধান নিয়ে তাদের অস্বস্তি রয়েছে: ভ্যাকসিন। মে মাসের মাঝামাঝিতে করা একটি জরিপ বলছে, ৫০ শতাংশেরও কম আমেরিকান জানিয়েছে, উপলব্ধ হওয়ার পর তারা করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণ করবে।
করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন প্রক্রিয়াকে (বিকাশ থেকে ট্রায়াল ও বিপণন অবধি) অবিশ্বাস করাকে নিছক ‘বিজ্ঞানবিরোধী’
চিন্তা হিসেবে খারিজ করা যাবে না। এটা কেবল রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে প্রাপ্ত তাত্ক্ষণিক কোনো ফলাফল এবং শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আসা বিপজ্জনক কোনো ভুল তথ্য না।
ভ্যাকসিন অনেক প্রতিরোধযোগ্য নয় এমন রোগকে দূর করতে ভূমিকা রাখার পরও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে প্রত্যাখ্যান ও দ্বিধার বিষয়টি বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত ভ্যাকসিনকে প্রত্যাখ্যান করার ঘটনা বেশি দেখা যায় ধনী এবং শ্বেতাঙ্গদের এলাকায়। কিন্তু জরিপগুলো বলছে, অপেক্ষমাণ করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন নিয়ে দ্বন্দ্ব ও প্রত্যাখ্যান প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মাঝেও বেড়েছে। এমনকি এ গোষ্ঠীকেই সবচেয়ে বেশি সংশয়ী বলে মনে হচ্ছে। যদিও কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক এবং আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ গোষ্ঠী কেন ভ্যাকসিন চায় না তা বোঝা কঠিন নয়। জনস্বাস্থ্যের সুপারিশগুলো অস্বীকার করার বিষয়টি মেডিকেল সিস্টেমের ঐতিহাসিক বর্ণবাদেই খচিত আছে। মূলত পক্ষাতিত্বমূলক বিজ্ঞানের দ্বারাই এ ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
সম্প্রতি একটি পডকাস্ট এপিসোডে গবেষক অ্যাঞ্জেলা সায়নি মনোযোগ দিয়েছিলেন বৈজ্ঞানিক বর্ণবাদের দিকে। এ লেন্স দিয়েই দেখা গেছে, ভ্যাকসিন নিয়ে অবিশ্বাস এবং বৈজ্ঞানিক হস্তক্ষেপ কোনো কারণ ছাড়া হয়নি। এজন্য ফিরে যাওয়া যেতে পারে বাধ্যতামূলক নির্বীজনের যুগে। তথকাথিত ‘আনফিট’দের পুনরুৎপাদন দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএস ইউজেনিস আন্দোলনের কৌশলকে ব্যবহার করেছিল। এ উপায়টি চালিত হয়েছিল কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী এবং লাতিন নারীদের উদ্দেশ করে। পাশাপাশি তাদের ‘উণমানুষ’
ট্যাগও দেয়া হয়েছিল। অবশ্য এটি একটি মাত্র উদাহরণ, এ রকম অসংখ্য উদাহরণ আছে যার ফলাফল হচ্ছে ভ্যাকসিনের প্রতি অনেক মার্কিনির অনীহা।
সায়েন্টিফিক আমেরিকান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত





