কলকাতার এএমআরআই হাসপাতালে কভিড-১৯-এর একজন রোগী ভেন্টিলেটরে দীর্ঘ লড়াই করে বেঁচে ফিরেছেন। এমন রোগী সাধারণত খুব কমই বেঁচে ফেরেন। হাসপাতালটির ক্রিটিক্যাল কেয়ার কনসালট্যান্ট ডা. শাশ্বত সিনহা তার পরিচর্যা করেছেন।
৫২ বছর বয়সী সমাজসেবক নিতাই দাস ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এক্স-রে করে তার ভয়ংকর অবস্থা দেখা যায়। তার ফুসফুস ফুলে যাওয়া কোষ এবং বায়ুথলি সাদা তরলে পরিপূর্ণ ছিল, যা তার অক্সিজেন প্রবাহকে বাধা দিচ্ছিল। সেই রাতেই চিকিৎসকরা তার অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে একটি উচ্চপ্রবাহের মাস্ক ব্যবহার করেছিলেন। কভিড-১৯ পরীক্ষায় পরদিন তার ফল পজিটিভ আসে।
তার শ্বাস গ্রহণের ক্ষমতা এতটাই কম ছিল যে অক্সিজেন বন্ধ করে তার মুখে এক চুমুক পানি দেয়াও কঠিন ছিল। বেশির ভাগ মানুষের সাধারণত অক্সিজেনের স্যাচুরেশন ৯৪ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে থাকে, তবে তার ৮৩ শতাংশে নেমে গিয়েছিল। প্রতি মিনিটে যেখানে ২০ বার শ্বাস নেয়া স্বাভাবিক, সেখানে নিতাইদাস ৫০ বারের বেশি শ্বাস নিচ্ছিলেন।
এরপর তাকে ওষুধের মাধ্যমে ঘুমিয়ে দিয়ে ভেন্টিলেটর দেয়া হয়েছিল। কভিড-১৯ আক্রান্ত খুব কম রোগীই নিতাইদাসের মতো ভাগ্যবান হন। ভেন্টিলেটরে থাকাকালীন ওষুধ দিয়ে তার পেশিগুলোকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছিল, যেন তিনি নিজ থেকে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা না করেন। কিন্তু ১১ এপ্রিল রাতে তার অবস্থা খারাপের দিকে মোড় নেয়। তার শরীরে নতুন সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়। তখন ডা. সিনহা সংক্রমণকে মারতে ‘শেষ চেষ্টা’
হিসেবে সরাসরি তার রক্তনালিতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেছিলেন। ঝড়টি পার হতে ৩ ঘণ্টা সময় লেগেছিল।
এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে চিকিৎসকরা আধা ঘণ্টার জন্য তার ভেন্টিলেটর খুলে দিয়েছিলেন এবং তিনি নিজ থেকে শ্বাস নিয়েছিলেন। ৩ মে তাকে ভেন্টিলেটর থেকে খুলে দেয়া হয় এবং পাঁচদিন পর তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এখন তিনি বাড়িতে নতুন জীবন শুরু করেছেন। সাহায্য ছাড়াই তিনি হাঁটা শুরু করেছেন এবং এমনকি তার কিছু স্মৃতিও ফিরে এসেছে।
বিবিসি





