লকডাউনের সময় এবং এর আগে ও পরে বন্যপ্রাণীদের পদচিহ্ন অনুসরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন একটি দল। ‘অ্যানথ্রোপজ’ নামের এই সমীক্ষা বিশ্বব্যাপী পরিচালনা করবেন গবেষকরা।

সাময়িক সময়ের জন্য হলেও লকডাউনে মানবীয় কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়ায় অন্য প্রজাতির প্রাণিকুলের ওপর সুগভীর প্রভাব পড়েছে। কতটা প্রভাব পড়েছে, তা বের করে আনার চেষ্টা করবেন গবেষকরা। তার ওপর ভিত্তি করে ক্রমেই ঘনসন্নিবিষ্ট হয়ে ওঠা পৃথিবীকে কীভাবে সবার জন্য আবাসযোগ্য করে তোলা যায়, সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনাও থাকবে।

এই মিশনের একটি রূপরেখা তারা সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে তুলে ধরেছেন। রূপরেখায় ‘জরুরি পদক্ষেপ’ নেয়ার কথা বলা হয়েছে: ভূমণ্ডলের বহু জায়গায় মানুষের আকস্মিক এই অনুপস্থিতির সময়টা কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীদের শিখতে পারার ও নানা তথ্য-উপাত্ত জড়ো করতে পারার, গবেষকদের বিভিন্ন জায়গায় প্রবেশাধিকার ও গবেষণাকর্ম চালিয়ে যাওয়ার, মানুষের গতিবিধির ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার ও প্রাণীদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ করার অধিকার প্রদান।

ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুসের প্রফেসর ক্রিস্টিয়ান রাটজ ইন্টারন্যাশনাল বায়ো-লগিং সোসাইটির প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, মহামারীজুড়েই সারা বিশ্ব থেকে প্রাণিকুলের গতিবিধি ও আচরণসহ নানা তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছে বায়ো-লগার (প্রাণীর শরীরে লাগানো ছোট্ট ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা তার ব্যাপারে নানা তথ্য দেয়)। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘গবেষকদের জন্য মহামূল্যবান এক সুযোগ, যদিও এটা বিয়োগান্তক একটি পরিস্থিতিতে এসেছে। কিন্তু এটি এমনই এক সুযোগ যা আমরা হাতছাড়া করতে চাইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভয়ংকর এই সংকট আমাদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান আহরণের সুযোগ করে দিয়েছে, যে জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মানবজাতি ও প্রাণিকুলের মঙ্গলসাধনে উদ্ভাবনমূলক নানা কৌশল তৈরির কাজে লাগানো যাবে।’

তারা উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন চেরনোবিলে পারমাণবিক চুল্লিতে বিস্ফোরণের পর পরিত্যক্ত অঞ্চল থেকে কুবতর, ইঁদুর বিলীন হয়ে গেলেও ফিরে এসেছে শূকর, হরিণ ও ভালুক।

বিবিসি