নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই বিভিন্ন দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাগুলো বন্ধ হতে থাকে। লোকজনও সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় গণপরিবহন এড়িয়ে চলা শুরু করেছিল। তবে গণপরিবহন থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খুব কমই প্রমাণ রয়েছে। প্যারিসে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মে মাসের প্রথম থেকে জুনের প্রথম পর্যন্ত শহরের ১৫০টি ক্লাস্টারের কোনোটিই গণপরিবহন থেকে উদ্ভূত হয়নি।
মহামারীবিদরা করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রধান স্থান বর্ণনা করতে ক্লাস্টার শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কেবল পরিবারের মধ্যে সংক্রমণ বাদ দিয়ে অন্য কোনো একক স্থান থেকে তিনজনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হলে সেটাকে ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ফ্রান্সের জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা সান্তা পাবলিক ফ্রান্সের গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণাটি গত ৪ জুন প্রকাশিত হয়েছিল। সংস্থাটির মুখপাত্র মেরি ডেলিব্রিস ইঅ্যান্ড নিউজকে বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে সেই তারিখ পর্যন্ত কোনো পরিবহন ক্লাস্টার চিহ্নিত করা যায়নি। তবে ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্যারিসে চারটি গণপরিবহন ক্লাস্টার চিহ্নিত করা হয়েছিল, যা মোট ৩৮৬টি ক্লাস্টারের মধ্যে ১ শতাংশ।
জাপানেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে গবেষকরা দেশের যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর সঙ্গে যুক্ত কোনো ক্লাস্টার খুঁজে পাননি। জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিতোশি ওশিতানি বলেন, বেশির ভাগ ক্লাস্টারগুলো জিম, বার, গানের লাইভ অনুষ্ঠানসহ এ ধরনের স্থানে জন্ম নিয়েছিল।
মহামারী বিজ্ঞানীরা অনিশ্চিত ছিলেন যে মহামারীর মধ্যে জিমে যাওয়া বা আউটডোর সিটিংসহ রেস্তোরাঁয় খাওয়ার চেয়ে অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ ঝুঁকিপূর্ণ কিনা।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকিউলার ওষুধের সহযোগী অধ্যাপক রুথ কলিন্স বলেন, এটা (গণপরিবহন) কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? আর হ্যাঁ, জীবনে এমন কিছু নেই যা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কভিড-১৯ যুগে প্রত্যেকেই কী কী ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক তা যাচাই করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, মহামারী চলাকালীন যেকোনো ক্রিয়াকলাপের ঝুঁকি শ্রেণীবদ্ধ করা কঠিন। তবে যাত্রীরা যদি নাক ও মুখ ঢেকে মাস্ক পরে থাকে তবে রাইডিং ট্রানজিট নিরাপদ।
এ মূল্যায়নের সঙ্গে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের
মিল্কেন ইনস্টিটিউট স্কুল অব পাবলিক হেলথের শীর্ষস্থানীয় মহামারী বিশেষজ্ঞ মেলিসা পেরি একমত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, মাস্ক ব্যবহার যখন সার্বজনীন এবং এতে যখন আপনার সম্মতি রয়েছে, তখন আপনি ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) মতে, মাস্ক পরা ও শারীরিক দূরত্ব বা সহযাত্রীদের থেকে ছয় ফুট দূরে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। তারা পৃষ্ঠতল পরিষ্কার ও জীবাণুনাশককে প্রাধান্য দেয়, ফলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম।
পেরি বলেন, তার পরও গাড়ির সিটের হাতল লিফটের বোতামের মতো ‘হাই টাচ সারফেস’
ঝুঁকি তৈরি করে, যেখানে আপনার আগেও অনেক লোক সেটি স্পর্শ করেছে। মুদি দোকানের কোনো একটা আইটেমে কভিড-১৯ থাকার আশঙ্কা খুব কম। কিন্তু গণপরিবহনকে আমরা যেমনটা বলছি হাই টাচ সারফেস। আর এগুলো উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পৃষ্ঠ।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংব ইনো সেন্টার ফর ট্রান্সপোর্টেশনের সিনিয়র পলিসি বিশ্লেষক ব্রায়ান এবি বলেন, গণপরিবহনের শহরগুলোতে এগুলো এড়ানো খুব কঠিন। কারণ এগুলো ছাড়া ব্যক্তিগত যান বেড়ে যাবে এবং যানজটের সৃষ্টি হবে। আর যানজট বায়ুমানের সমস্যাগুলোকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
সায়েন্টিফিক আমেরিকান





