বেইজিংয়ের দক্ষিণ উপকূলে চোখে পড়ার মতো নতুন একটি সাদা ভবন তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন-জীবাণুমুক্ত দেয়ালের ভেতরে মাস্ক ও গ্লাভস পরা দুজন কর্মচারী ছোট টিউবগুলোতে একটি পরিষ্কার, বর্ণহীন তরল পাইপেট করতে ব্যস্ত। ভবনটির অভ্যন্তরে কিছু জায়গায় এখনো কাজ চলছে এবং বাইরে নির্মাণ যানবাহনগুলো নোংরা পরিষ্কার করছে। ২ লাখ ১৫ হাজার বর্গফুটের এ ভবনটি ভ্যাকসিন তৈরির জন্য সম্প্রতি নির্মাণ করেছে চীনা ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা সিনোভ্যাক বায়োটেক।

এটি মূলত প্রাণঘাতী কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন তৈরিতে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকা এবং বৈজ্ঞানিক দক্ষতা প্রদর্শন করার জন্য চীনের চাপের একটি অংশ। করোনাভ্যাক নামে সংস্থাটির তৈরি ভ্যাকসিনটি বর্তমানে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল পরিচালনা করছে।

ভ্যাকসিন প্রার্থীর দৌড়ে থাকা ভ্যাকসিনগুলোর মধ্যে ছয়টি ভ্যাকসিন তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু করেছে, যার তিনটিই চীনা। নিয়ন্ত্রকদের থেকে অনুমোদনের আগে কার্যকারিতা ও সুরক্ষা প্রমাণের শেষ ধাপ এটি। করোনাভ্যাকের শেষ পর্যায়ের ট্রায়ালে ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বেইজিংয়ের ড্যাক্সিং জেলায় ভ্যাকসিন তৈরির এ প্লান্টে সিনোভ্যাকের ইনভেস্টর রিলেশনের পরিচালক হেলেন ইয়াং বলেছেন, যদি সবকিছু ঠিকঠাক হয়, তবে এ বছরের শেষ দিকে আমরা আমাদের ভ্যাকসিনের ফল পেতে পারি।

গত মার্চে এ প্লান্টটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। ইয়াং বলেন, ভ্যাকসিনটি অনুমোদন পেলে এই প্লান্টটি বছরে ৩০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন তৈরি করবে। ভ্যাকসিন অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি দ্রুত করার জন্য আমরা ভ্যাকসিনের অনুমোদন সংস্থা চীনের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে কাজ করছি।

সিএনএন