নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গোটা বিশ্ব টালমাটাল। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে স্কুলগামী খুদে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর। বিশেষ করে সেসব বাচ্চার জন্য, যারা দূরে বসে অনলাইনে ক্লাস করার বিষয়ে এখনো মানিয়ে উঠতে পারেনি। কেমন হবে সেসব বাচ্চার অবস্থা? উদ্ভট এ শিক্ষাবর্ষের প্রভাবইবা বাচ্চাদের ওপর কেমন হবে? হ্যাঁ, নিশ্চিতভাবেই কেউ কিছু বলতে পারে না, কারণ এ শিক্ষাবর্ষটি সত্যিকার অর্থেই নজিরবিহীন। তার পরও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ শিক্ষাবর্ষের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলগুলো নির্ণয় করার চেষ্টা করছেন।
শিখন প্রক্রিয়ায় বড় ক্ষতি
বিশেষজ্ঞরা একমত যে অনেক বাচ্চা যেখানে তাদের থাকার কথা ছিল সেখান থেকে অনেক পেছনে পড়ে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কতটা? একটি গবেষণা বলছে, যেসব বাচ্চা দূরে বসে শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং যারা বেশ সাধারণ নির্দেশনা পেয়েছে তারা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সরাসরি ক্লাস শুরু করার পর পড়াশোনার ক্ষেত্রে চার মাস হারাবে। অন্যদিকে যারা দূরবর্তী অবস্থানে থেকে পড়াশোনার জন্য কম সুযোগ-সুবিধা ও নির্দেশনা পেয়েছে তারা হারাবে ১১ মাসের শিক্ষা। আর যারা দূরবর্তী শিক্ষার সঙ্গে একেবারেই যুক্ত ছিল না তারা হারাবে ১৪ মাস।
এডুকেশন লিডারশিপের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ব্রেইন পারকিনস বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এক বছরের বেশি সময়ের জন্য পিছিয়ে যাবে। কেউ কেউ কয়েক মাসের জন্য। কিন্তু আমি মনে করি আমরা সাবর্জনীনভাবে বড় ধরনের ক্ষতি দেখতে পাচ্ছি।
তিনি বলেন যে এটা শিশু, পিতা-মাতা কিংবা শিক্ষার্থীদের সমালোচনা নয়, যারা কিনা এ বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের সেরাটা করছে। বরং এটাই বাস্তবতা যার মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
বৈষম্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে সামনে আসবে
স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, কভিড-১৯ মহামারীতে সমতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যার মুখোমুখি হবে শিশু, পরিবার ও শিক্ষকরা। প্রফেসর নারমেন ডাশউশ বলেন, পার্থক্য এখানে সবসময়ই ছিল, যা এখন আরো বেশি বিস্তৃত হবে।
অবস্থাপন্ন ঘরের শিশুরা দূরবর্তী শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সুবিধা পেলেও নিম্ন আয়ের ঘরের সন্তানরা এসব দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। দূরে বসে শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট। যা নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা কদাচিৎই পেয়েছে। পারকিনস বলেন, আছে এবং নাইয়ের মাঝে আমরা আরো বিস্তৃত বৈষম্য দেখতে যাচ্ছি।
বাচ্চারা প্রকৃত অর্থে কোথায় অবস্থান করছে তা আমাদের নির্ণয় করতে হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি আলাদা আলাদা বাচ্চা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের কতটা সাহায্য ও সমর্থন দরকার তা নির্ণয় করা বেশ জটিল। মনোবিজ্ঞানের প্রফেসর স্টিভেন মেয়ার্স বলেন, যেসব বাচ্চার পরিবার শারীরিকভাবে স্বাস্থ্যবান, অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত, যাদের বাবা-মা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে সেসব বাচ্চা হয়তো স্বল্পমেয়াদি মানসিক অবসাদে ভুগবে।
তবে অন্যদিকে এমন অনেক শিশু আছে যারা দীর্ঘমেয়াদি অবসাদসহ অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকিতে থাকবে। বিশেষ করে যাদের বাবা চাকরি হারিয়েছে, যাদের স্বল্প অর্থনৈতিক সংস্থান ও বাসস্থানজনিত সমস্যা রয়েছে। এছাড়া যেসব শিশুর আগে থেকে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা রয়েছে তারা আরো বেশি ঝুঁকিতে থাকবে।
এছাড়া আরেকটি বিষয় হচ্ছে শিশুরা দূরবর্তী শিক্ষায় অভ্যস্ত না। জুমে ক্লাস করার ক্ষেত্রেও অনেকের অনীহা রয়েছে। একটি জরিপে দেখা গেছে দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষক বলেছেন, তাদের শিক্ষার্থীরা দূরবর্তী শিক্ষায় কম উৎসাহী। যা শেখার সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবে ভালো বই এবং আগ্রহোদ্দীপক জিনিস পড়িয়ে এ আগ্রহ বাড়ানোর কথা বলছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
হাফপোস্ট





