ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব লাভ আগারওয়ালকে মহামারীর শুরুর দিনগুলোতে সংবাদমাধ্যমের সামনে অবস্থা তুলে ধরার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল। বেশ কয়েকবার তিনি মন্তব্য করেন যে দৈনিক সংক্রমণের দিক থেকে ভারতের চূড়ায় অবস্থানের ঘটনা সম্ভবত কখনই আসবে না।

সে সময় এই দাবিটিকে বেশ বিস্ময়কর ঠেকেছিল। মহামারীর প্রচলিত ধারণা যা বলছে তা হলো মহামারীর বক্ররেখা সংক্রমণের তীব্র উত্থানের পর শিখর বা মালভূমি চূড়ায় যাওয়ার পর সংক্রমণ হ্রাস পেতে শুরু করে।

কিন্তু মহামারীর এখন ছয় মাস পার করছে ভারত, আগারওয়ালের কথাগুলো এখন অনেক কৌতূহল উদ্দীপক ও ভবিষ্যদ্বাণীর মতো শোনাচ্ছে। কোনো শিখর কিংবা মালভূমি চূড়ায় না গিয়েই ভারতে কভিড-১৯-এর গ্রাফ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

এটি প্রায় স্বতন্ত্র এক পরিস্থিতি। অনেক দেশ অন্তত একটি চূড়া স্পর্শ করেছে। এমনকি কেউ কেউ আবার নতুন সংক্রমণের উত্থান দেখেছে। কিন্তু ভারতের গ্রাফ মধ্য আগস্টে কিছু কমার আশা দেখালেও তা একেবারেই স্থায়ী ছিল না।

এটি কী ব্যাখ্যা করে? যেখানে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি লকডাউন দিয়েছিল ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করার জন্য। কিন্তু লকডাউনের ছয় মাস পরও ভারতের সংক্রমণ কেন বাড়ছে?

একাধিক মহামারী

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ব্যাখ্যাটি বরং সহজ। ভারতের ভৌগোলিক আকার। যার অর্থ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় মহামারীর অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন রকম ছিল।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ রিজু এম জন বলেন, যখন কোনো কোনো ভিড় ঠাসা শহরে সংক্রমণ মালভূমি চূড়ায় গিয়েছে বা নিচের দিকে চলে গেছে, তখন হয়তো অন্য কোনো শহরে মহামারী ওপরের দিকে ওঠা শুরু করেছে। জাতীয় গড় হচ্ছে দেশজুড়ে যা ঘটছে তার একটি সমষ্টি।

এপিডেমিওলজিস্ট ডিসিএস রেড্ডি ব্যাখ্যা করে বলেন, মহামারী এখন গ্রাম অঞ্চলে প্রবেশ করেছে, বড় একটি অংশ মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। তাই এটা বিস্ময়ের কোনো ব্যাপার নয় যে সম্মিলিত সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। কারণ লুকিয়ে আছে আমাদের জনসংখ্যার প্রকৃত আকারের মধ্যে।

অন্যান্য দেশ

কিন্তু অন্যান্য বড় দেশ কীভাবে লাগাম টানল? এপিডেমিওলজিস্টরা বলছেন, ভারতের পরিস্থিতি সরাসরি অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। রেড্ডি বলেন, অন্য যে দেশটির কথা আমরা ভাবতে পারি তা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রেড্ডি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দুটি প্রধান উত্থান দেখেছে। প্রথমটি দেখা গেছে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য যেমন নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি এবং দ্বিতীয়টি দেখা গেছে টেক্সাস ও ফ্লোরিডায়। এগুলো খুবই জনবহুল রাজ্য। চূড়ায় ওঠার পর ভাইরাস সরে গেছে যেখানে কম লোক বাস করে সেখানে।

বিপরীতে ভারতের গ্রাম অঞ্চলগুলো বেশ জনবহুল। তিনি বলেন, আমাদের ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে সেখানকার অবকাঠামোর কারণে। আমি সন্দিহান যে সেখানে শারীরিক দূরত্ব ও মাস্ক পরার বার্তা কতটা পৌঁছেছে সে বিষয়ে।

তিনি আরো যোগ করে বলেন, ভারতের লকডাউন সাহায্য করেনি। কারণ অনেকে শহর থেকে ভাইরাস গ্রামাঞ্চলে নিয়ে গেছে।

ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের ভাইরোলজিস্ট টি জ্যাক জন একমত পোষণ করে বলেন, ভারতের লকডাউন ব্যাপারগুলো আরো খারাপ করে ফেলেছে। তিনি বলেন, আমি ভারতকে ইউরোপের সঙ্গে তুলনা করতে চাই। ভারতের রাজ্যগুলো ইউরোপের দেশগুলোর চেয়ে বড়। তাই দেশব্যাপী লকডাউন অযৌক্তিক। আমাদের দরকার ছিল প্রতিটি স্থানে মহামারী অবস্থা বিবেচনা করা লকডাউন দেয়া।

স্ক্রলডটইন থেকে সংক্ষেপে অনূদিত