যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার দিকে যারা নজর রাখছেন তারা আপাতদৃষ্টিতে আশাব্যঞ্জক একটি প্রবণতা লক্ষ করবেন। প্রতিদিন যেভাবে রকেট গতিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, সেখানে মৃত্যু এখনো তুলনামূলক সমতল রেখায় রয়েছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন (আইএইচএমই) থেকে প্রাপ্ত অনুমান থেকে জানা যায়, এপ্রিলের মতো সংক্রমণের নতুন শীর্ষটি মারাত্মক হওয়ার আশঙ্কা নেই।

দেশটিতে পরীক্ষা বৃদ্ধি করা হয়েছে, এর মানে হলো আরো বেশি লক্ষণহীন আক্রান্তদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং তরুণরা প্রাদুর্ভাবের শুরুর তুলনায় এখন আক্রান্তদের বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। আর আমরা জানি যে তরুণদের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি কম মরণঘাতী। অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, মিনেসোটা, ওহাইও, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাসে ৪০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত বাড়ছে।

তবে বিপুল পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার তুলনায় মৃতের সংখ্যা আনুপাতিক হারে না বাড়লেও আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আইএইচএমইর মডেল অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে—এটা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যার কাছাকাছি। মডেলটি আশঙ্কা করছে, ভাইরাসটিতে পরবর্তী তিন মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ বা ততোধিক মানুষের মৃত্যু হবে। আশঙ্কাটিতে মৌসুম, পরীক্ষার পরিমাণ এবং মানুষজন কত বেশি বাড়ির বাইরে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সেগুলো আমলে নেয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। দেশটিতে এখন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৭ হাজার নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে। এদিকে এপ্রিলের পর দেশব্যাপী মৃতের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। গত সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিন গড়ে ৫৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যেখানে সংক্রমণের শীর্ষ পর্যায়ে থাকাকালীন শুধু ২১ এপ্রিল ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। একদিকে সামাজিক দূরত্বের আদেশগুলো তুলে দেয়া অব্যাহত থাকলেও মাস্ক ব্যবহার কিন্তু একই রয়েছে। তবুও যেকোনো উপায়ে দেশব্যাপী মৃতের সংখ্যার রেখা তুলনামূলক সমতল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

তবে এমন আশাবাদের মধ্যে আশঙ্কার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি ১ লাখ আক্রান্তের মধ্যে ৩৯ জনের মৃত্যু হচ্ছে। বর্তমানে ভাইরাসটিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ২০টি দেশের মধ্যে কেবল যুক্তরাজ্যে মাথাপিছু মৃত্যুহার বেশি। দেশটিতে প্রতি ১ লাখ আক্রান্তের মধ্যে ৬৬ জন মারা যাচ্ছে। তবে যদি বর্তমান হারে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকে তবে যুক্তরাষ্ট্র র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে যেতে পারে।

হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক হাওয়ার্ড কোহ বলেছেন, শিগগিরই কেউ বলতে চায় না যে মৃত্যু বাড়ছে না। এটা বললে সত্যিই ভুল হবে। কারণ যদি কেউ সংক্রমিত হয়, তারপর তার অসুস্থ হওয়ার, হাসপাতালে ভর্তি এবং মারা যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর পুরো এ পথটি পেরোতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে; এটা এক মাস বা তারও বেশি লাগতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত বাড়তে থাকলে হাসপাতালের ওপর চাপ তৈরি হবে এবং তখন মৃতের সংখ্যাও বাড়তে পারে। তাই আমরা কেবল কভিড-১৯ প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে সর্বাধিক প্রতিরোধ শক্তি অর্জন করতে পারি।

আইএইচএমই মডেল অনুযায়ী, সার্বজনীন মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে পারলে সেপ্টেম্বর মাসে মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন ১০০-এ নেমে আসবে। কোহ বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে এটা কেবল সংখ্যা নয়, বরং প্রকৃত মানুষের জীবন।

সায়েন্স অ্যালার্ট