অবৈধ ওষুধ, জাল টাকা এবং জাল সনদ বিক্রি করা আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটগুলো করোনা মহামারীর সময় আরো বেশি তত্পর হয়ে উঠেছে। কভিড-১৯ সম্পর্কিত পণ্যের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে নকল এবং ব্যবহার অনুপযোগী পণ্য বিক্রি করছে এই ডার্কনেট সাইটগুলো।

বেশির ভাগ আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়েসবাইটই পাওয়া যায় ডার্কনেট মার্কেটে। এগুলো এমন ওয়েবসাইট যা সাধারণ ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মতো দেখতে হলেও এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে বিশেষ ব্রাউজার বা অনুমোদন কোডের প্রয়োজন হয়। অবৈধ পণ্যের বিক্রেতারা হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও আইসিকিউয়ের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপগুলোয়ও গ্রুপচ্যাট ও চ্যানেল তৈরি করেছে।

জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রমাণভিত্তিক সাইবার সিকিউরিটি রিসার্চ গ্রুপের ডার্কনেট অ্যানালাইসিস প্রজেক্ট ৬০টিরও বেশি আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়েসবাইট থেকে ডাটা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করেছে। গবেষণা দলটি দেখেছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত প্রটেক্টিভ গিয়ার, ওষুধ ও সেবার নানা অফার বেড়েছে। আর এখান থেকে প্রতারিতও হচ্ছে অনেক মানুষ।

এ ধরনের ডার্কনেট মার্কেট ব্যবহার করা এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথমত এখান থেকে জাল বা নকল পণ্য পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এছাড়া স্বাস্থ্যগত ও আইনি ঝুঁকি তো আছেই। অকার্যকর কভিড-১৯ প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম এবং নকল ওষুধ কিনলে তা ক্রেতাকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে।

এ ধরনের ডার্কনেট ওয়েবসাইটে বিক্রেতারা কভিড-১৯ প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম; যেমন মাস্ক, পিপিই, টেস্ট কিট, থার্মোমিটার ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি করছে। কিন্তু তাদের এসব সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটের বিক্রেতারা সাধারণত পণ্যগুলোর উৎস জানায় না। ফলে ক্রেতারা সেসব পণ্যের মানও যাচাই করতে পারে না।

এসব মার্কেটে অন্যের ব্যবহূত পণ্যও বিক্রি হয়। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে মাস্কের তুমুল চাহিদা থাকলেও সরবরাহ ছিল কম। এ সময় থাইল্যান্ডের একজন বিপুল মাস্ক আছে এমন একটি ভিডিও দেন। পরে জানা যায় সেগুলো ছিল অন্যের ব্যবহূত মাস্ক। পুরনো মাস্ক ধুয়ে, আয়রন করে এবং বক্সে ভরে সেগুলো আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটে বিক্রি হচ্ছিল।

এসব আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটে রেমডিসিভির, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের মতো ওষুধও বিক্রি হচ্ছে। কিছু কিছু ওয়েসবাইট তো ভেন্টিলেটরও বিক্রি করছে। এসব ডার্কনেট মার্কেটের ওষুধ বা সরঞ্জাম ব্যবহার করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়া দেখা দিতে পারে গুরুতর সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটের ওয়েসবাইট ব্রাউজ করারও কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। এ ধরনের ওয়েবসাইট ক্রেতার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে। এসব তথ্য তারা ঋণ নেয়ার মতো কাজেও ব্যবহার করে।

জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্রিমিনাল জাস্টিস অ্যান্ড ক্রিমিনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ডার্কনেট অ্যানালাইসিস প্রজেক্টের একজন ডেভিড মাইমন বলেন, অনলাইনে এ ধরনের ডার্কনেট ওয়েসবসাইটের সংখ্যাটা এখনো অজানা। আন্ডারগ্রাউন্ড অর্থনীতির সামগ্রিক ধারণা দিতে আমাদের আরো বেশি পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করতে হবে। এ ধরনের তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে চাহিদার তীব্রতা পরিমাপ করা, চাহিদা অনুযায়ী জোগানের পরিমাণ এবং আন্ডারগ্রাউন্ড অর্থনীতিতে এর প্রভাব কেমন তা জানা।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এসব চ্যালেঞ্জ জয় করে প্রচুর ডেটা সংগ্রহ করতে হবে। তাহলেই জানা যাবে করোনা সংকটকে কাজে লাগিয়ে তারা কীভাবে আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ গবেষণার ফলাফল এসব জাল পণ্যের ব্যবসা বন্ধ করতেও সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্ক্রলডটইন