নভেল করোনাভাইরাসের তীব্রতার ভিন্নতা মহামারীর অন্যতম বিস্ময়কর দিক হিসেবে হাজির হয়েছে। ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে অনেক সুস্থ তরুণ-তরুণীর মধ্যে প্রাণঘাতী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। আবার একই সঙ্গে অনেকের মৃদু উপসর্গ কিংবা অনেকের লক্ষণ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
এর পেছনের অজানা কারণগুলো স্পষ্টতই কিছু মানুষকে মহামারীর সবচেয়ে খারাপ প্রভাবের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। তাদের মধ্যে অল্পবয়স্ক, ওজন বেশি নয় ও অন্যান্য সুস্পষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন না এমন মানুষও রয়েছেন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ক্ষুদ্র জেনেটিক পার্থক্য কিছু মানুষকে তীব্র অসুস্থ ও অন্যদের লক্ষণহীন করে দিচ্ছে।
ডিএনএর পার্থক্যগুলো এখন গবেষকরা অনুসরণ করছেন। তারা বিশ্বাস করেন, এটা নতুন ওষুধ তৈরির একটা পথ সরবরাহ করবে, যা কভিড-১৯-এর ভয়াবহ পরিণতির অনেকগুলোকে থামিয়ে দিতে পারে। ওষুধ তৈরিতে এমন গবেষণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় ইন্টারফেরন শরীরকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে কিনা। করোনাভাইরাসের চিকিৎসা হিসেবে ইন্টারফেরন ওষুধের ব্যবহার নিয়ে বেশ কয়েকটি ট্রায়াল চলছে।
লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের এমারজিং ইনফেকশাস ডিজিজ বিভাগের অধ্যাপক মার্টিন হিববার্ড বলেন, এ জিনগত আবিষ্কারগুলো আমাদের খুব স্পষ্ট উপলব্ধি দেয়। প্রাকৃতিক জৈবিক এ পরীক্ষাগুলো প্রমাণ করে সংক্রমিত অবস্থায় যারা বেশি ইন্টারফেরন তৈরি করেন, তাদের এ রোগের বিরুদ্ধে ভালো প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এ ফলাফল আমাদের জানায়, ইন্টারফেরনের মাধ্যমে কভিড-১৯ চিকিৎসায় রোগীরা ভালো উপকার পেতে পারে।
গবেষকরা টিওয়াইকে২ নামে পরিচিত একটি জিনের দিকেও নজর দিচ্ছেন। এ জিনের কিছু রূপ রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের (আরএ) মতো কিছু অটো-ইমিউন রোগকে চালিত ও গুরুতর কভিড-১৯ সৃষ্টিতে জড়িত বলে মনে করা হয়। এজন্য আরএ রোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি ব্যারিসিটিনিব ওষুধ কভিডের বিরুদ্ধে কাজ করে কিনা জানতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। গত মাসে ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা এলি লিলি ঘোষণা দিয়েছে, প্রাথমিক ফলাফলগুলো দেখিয়েছে ওষুধটি করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগীদের সারিয়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
ব্রিটেনের ওয়েলকাম স্যাঞ্জার ইনস্টিটিউটের কভিড-১৯ জিনোমিক সার্ভিলেন্স প্রোগ্রামের জেফ্রি ব্যারেট বলেন, এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জিনের রূপগুলোর প্রভাব বুঝতে পেরে আমরা এমন ওষুধগুলো সন্ধানের বিষয়ে চিন্তা করতে পারি। এ ওষুধগুলো ভাইরাসের পথ বন্ধ করে রোগীদের সহায়তা করতে পারে। দুঃসংবাদটি হলো এভাবে চিকিৎসা খুঁজতে কয়েক বছরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা লাগতে পারে। সুসংবাদটি হলো এখন অনেক বিজ্ঞানী এগুলো নিয়ে কাজ করছেন। সুতরাং আমরা দ্রুত উত্তর পেতে পারি।
এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেথ বেইলি তার গবেষণায় এমন আরো কয়েকটি জিন আবিষ্কার করেছেন, যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। এর মধ্যে রয়েছে ওএএস জিন। এটা ইন্টারফেরন দ্বারা চালিত হয়। বেইলি জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন যে তার গবেষণার ফলাফলগুলো চিকিৎসা বিকাশের গতি বাড়িয়ে দেবে। কারণ মহামারীটি এতটা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, এমনকি কয়েক মাস সময় সাশ্রয় করতে পারলেও প্রচুর জীবন বাঁচবে। এছাড়াও অন্য গবেষকরা দেখিয়েছেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জেনেটিক্স ব্যবহার ভালো ফল বয়ে আনতে পারে।
দ্য গার্ডিয়ান





