একসময়ের কোলাহলপূর্ণ-ব্যস্ততম রাস্তাগুলো এখন নির্জন, হ্যাজম্যাট স্যুট পরিহিত মুদি দোকানদার বা ফ্রন্টলাইনে লড়াই করতে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের ক্লান্ত মুখ। এগুলো এমন কিছু চিত্র, যা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে ধারণ করছে। বিশ্বজুড়ে জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো করোনাভাইরাস মহামারী নথিভুক্ত করার কাজ করে চলেছে।

এপ্রিলের শেষ দিকে প্রত্নতত্ত্ব, ভবন ও সামাজিক ইতিহাসের দলিল সংরক্ষণ করা ‘হিসটোরিক ইংল্যান্ড’ লকডাউন সময়ের ছবি সংগ্রহের জন্য ‘পিকচারিং লকডাউন কালেকশন’ নামে একটি প্রকল্প শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বজনীন সংগ্রহের জন্য সংস্থাটির এটাই প্রথম আহ্বান। এক সপ্তাহ পর তারা পুরো দেশ থেকে প্রায় ৩ হাজার ছবি পায়, যা বিচিত্র এক সমষ্টিগত অভিজ্ঞতার জীবন্ত দলিল।

হিসটোরিক ইংল্যান্ডের ক্রিয়েটিভ প্রোগ্রামস অ্যান্ড ক্যাম্পেইনের প্রধান এলেন হ্যারিসন বলেন, এটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ যে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পেছনে ফিরে তাকিয়ে আমাদের নিরাপদে থাকার জন্য কী করতে হয়েছিল তা দেখতে পাবে।

অস্ট্রিয়ার উইন জাদুঘর তাদের ‘করোনা ইন ভিয়েনা’ প্রকল্প শুরুর মাধ্যমে করোনার সময়ে জনগণের নতুন ব্যক্তিগত বা পেশাদার জীবনের বিশেষ, নতুন বিষয়গুলোর ছবি আহ্বান করেছে। এর মধ্যে স্বাক্ষর, পোস্টার, বাড়িতে তৈরি শিল্পকর্ম, সামজিক দূরত্ব কার্যকরে বাধা এবং আরো অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এমনভাবে বৈশ্বিক সংগ্রহশালাগুলো করোনাভাইরাস মহামারীর এ কঠিন সময়ের উপকরণ, চিত্র ও গল্পগুলো সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ শুরু করেছে। আজকের এসব সংগ্রহের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ মহামারী সম্পর্কে জানতে পারবে।

সিএনএন