প্রায় পাঁচ মাস ধরে তিনজন শিশু তাদের বাবা-মায়ের কাছে ঘরবন্দি থাকার পর কেয়ার হোমে গিয়ে তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এখন তাদের বাড়িতে ফিরতে দেয়া উচিত নয় বলে রায় দিয়েছেন সুইডেনের একটি প্রশাসনিক আদালত।
জনকপিং কাউন্টিতে আদালতের রায় অনুসারে, মার্চ থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের পরিবার তাদের অ্যাপার্টমেন্টে আটকে রেখেছিল, তাদের দরজায় কাঠের তক্তা দিয়ে পেরেক মেরে দেয়া হয়েছিল এবং তাদের একে অন্যকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল।
ওই শিশুদের আইনজীবী মিকায়েল স্বেগফর্স বলেছেন, পরিবারটি সুইডিশ ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে বা বুঝতে পারে না। এ শিশুদের বাবা-মা তাদের দেশের কভিড-১৯-এর সংবাদ অনুসরণ করেছিল। সেখানে সুইডেনের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন অংশের মানুষের চিন্তাভাবনায় ভিন্নতা থাকে। শিশুরা এ ভিন্নতার মধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে। আমাদের সবাইকে করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ে এক বা অন্য যেকোনো উপায়ে ভয় করা উচিত।
সেই তিন শিশুর অভিভাকরা বলেছেন, শিশুরা ঘরে বসে হোম স্কুল করছে। তবে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের ঘরে তালাবন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তারা ইচ্ছা করলে বাইরে যেতে পারবে। এজন্য আমরা বাধ্যতামূলক এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার চিন্তা করেছি। আদালতে বাবা-মায়ের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী অ্যাড্রেয়াস হানাহ বলেন, এ বিষয়ে আলাদা চিন্তাভাবনা এবং বিভিন্ন ধরনের চিত্র আছে।
অন্যান্য দেশের চেয়ে সুইডেনের বিধিনিষেধগুলো আলাদা ছিল। সুইডেন ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়গুলো উন্মুক্ত রেখেছিল এবং পুরো উপস্থিতির ওপর জোর দিয়েছিল। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর পরিবারসহ পরিবারগুলোকে সামাজিক পরিষেবাগুলোর বিষয়ে রিপোর্ট এবং তাদের শিশুদের ঘরে রাখার জন্য জরিমানার মুখোমুখি করা হয়েছিল।
গার্ডিয়ান





