নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধে ব্যাপক আকারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা না হলে সরকারঘোষিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও পাবলিক স্পেস পুনরায় খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। রাসায়নিক ও সরবরাহের অভূতপূর্ব চাহিদা থাকায় কভিড-১৯ সংক্রমণের পর্যাপ্ত পরীক্ষার এখনো ঘাটতি রয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন কয়েক হাজার করে পরীক্ষা করছে অথচ নিরাপদভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার জন্য তাদের দৈনিক কয়েক মিলিয়ন পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও জার্মানির কয়েক ডজন গবেষক পরীক্ষা বাড়াতে একটি কৌশল অনুসরণের কথা বলছেন, তা হলো গ্রুপ পরীক্ষা।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এ পদ্ধতিতে অনেক মানুষকে কয়েকটি দলে ভাগ করে নমুনা নিয়ে লটারি করে কয়েকটি পরীক্ষা করার মাধ্যমে কম পরীক্ষা করেও বেশি মানুষকে মূল্যায়ন করা যাবে। এই প্রক্রিয়ায় দ্রুত মানুষকে শনাক্ত করা যেতে পারে, এ রোগের অজানা বাহককে চিহ্নিত করে, সংক্রমিত নয় এমন মানুষদের দ্রুত আলাদা করে ফেলা সম্ভব। এ কৌশলটি এইচআইভি, ক্ল্যামিডিয়া, ম্যালেরিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে অতীতে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্যের সিফিলিস পরীক্ষা করা হয়েছিল।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল ভাইরোলজি পরিচালক স্যান্ড্রা সিসেক বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো ভ্যাকসিন নেই, আমরা কেবল সংক্রমিত ব্যক্তিদের পরীক্ষা ও বিচ্ছিন্ন করে ভাইরাসের সংক্রমণ বন্ধ করতে পারি।’
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তিনি বলেছিলেন, কোনো লক্ষণ ছাড়াই লোকেরা ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। সেই থেকে সিসেক লক্ষণবিহীন বাহক শনাক্ত করতে গ্রুপ স্ক্রিনিং কৌশল নিয়ে কাজ করছেন।
গ্রুপ পরীক্ষা নিয়ে কাজ করা ইসরায়েলের নেভেগের বেন-গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটেশনাল ইমিউনোলজিস্ট টোমার হার্জ বলেন, এ পদ্ধতিতে একইসংখ্যক পরীক্ষা দিয়ে আরো বেশি মূল্যায়ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে একটি সতর্কতা রয়েছে, একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ যত বাড়ছে, গ্রুপ পরীক্ষার মাধ্যমে রিসোর্স রক্ষার ক্ষমতা তত হ্রাস পাচ্ছে।
গ্রুপ টেস্টিং একটি সংখ্যাগত গেম। ধরা যাক আপনি ১০০ জনকে পরীক্ষা করলেন, তাদের মধ্যে একজন পজিটিভ। তবে গ্রুপ পরীক্ষার জন্য আপনি যদি ওই ১০০ জনকে ৫টি দলে ২০ জন করে ভাগ করতে পারেন, তাহলে আপনি একেকটা দল থেকে ২০টি নমুনার মধ্যে লটারি করে একটি করে পরীক্ষা করেন। আপনি যদি ৪টি দলের ৪টি পরীক্ষা নেগেটিভ পান তবে ৮০ জন নেগেটিভ হিসেবে শনাক্ত হবে। আর বাকি একটি দলের একটি নমুনা পজিটিভ হলে সেই দলের প্রতিটা নমুনা আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হবে। শেষ পর্যন্ত ১০০ জনের পরিবর্তে আপনি ২৫টি পরীক্ষা করে সংক্রমণের ফল পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রুপ পরীক্ষা ভাইরাসটির তিনটি সম্ভাব্য ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করতে একটি দেশকে সহায়তা করতে পারে; ছোট প্রাদুর্ভাব, ব্যাপক আকারে সংক্রমণ ও মৃত্যু এবং একটি চলমান সংকট।
জার্মান রেড ক্রসের মাইকেল স্মিথ বলেন, আমরা জানি যে যখন ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির যোগাযোগ হয়, তখন ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এটা এখনো জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র তথা পৃথিবীর সব দেশেই কমবেশি আছে। আমি মনে করি এটা একটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং এটার সংক্রমণ রুখতে আমাদের একটি ভালো কৌশল দরকার।
সায়েন্টিফিক আমেরিকান





