বয়স্ক থেকে শুরু করে নার্সারিগামী শিশুদের পর্যন্ত ভিডিও কল, বিনোদন, কুইজ বা অনলাইন আড্ডাগুলো এ মুহূর্তে লাইফলাইন হয়ে উঠেছে। লকডাউনের কারণে নোটিফিকেশন, কল, মেসেজের সঙ্গে কাজের ও পারিবারিক জীবনের মধ্যকার সীমাটিও অস্পষ্ট ও ভারসাম্যহীন হয়ে উঠেছে। গবেষণা বলছে, এর মধ্যে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে গেম খেলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো স্ক্রল করা মানসিক ও শারীরিক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, তিন মাস বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু নিয়মিত টেলিভিশন, ডিভিডি বা ভিডিও দেখে; ২৪ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটা বেড়েছে ৯০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ৮ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা প্রতিদিন গড়ে ৭ ঘণ্টা ১১ মিনিট স্ক্রিনভিত্তিক বিনোদনে ব্যয় করছে। অফকমের গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের প্রাপ্তবয়স্করা প্রতি ১২ মিনিটের মধ্যে তাদের ফোন চেক করে।

প্রতিনিয়ত খবর দেখার প্রবণতাও নতুনভাবে স্ক্রিনের প্রতি আসক্তি তৈরি করছে, আর এটা মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিদ্রা এমনকি ট্রমার সঙ্গে যুক্ত। গবেষণাগুলো প্রমাণ দেয় যে অত্যধিক স্ক্রিনের সামনে কাটানোর ফলে মাথাব্যথা, মাইগ্রেন, আইস্ট্রেইন, স্থূলত্ব ও অনিদ্রা দেখা দেয়। এটা শিশুদের মধ্যে আচরণগত সমস্যা, বিদ্যালয়ে অসুবিধা ও সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধির কারণ বলেও মনে করা হয়।

স্ক্রিন থেকে দূরে থাকার উপায়

শারীরিক ও মানসিক এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে স্ক্রিন ব্যবহার কমানোর কোনো বিকল্প নেই। আর এটা করার কয়েকটা উপায় রয়েছে।

নিজেকে ও আপনার গেজেটদের জন্য সপ্তাহে একদিন ছুটির দিন নির্ধারণ করুন। ল্যাপটপ, টিভি, ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনটি বন্ধ রাখুন এবং অফলাইনে কিছু ‘কোয়ালিটি টাইম’ ব্যয় করুন। একটি তালিকা তৈরি করতে পারেন। আপনার পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার রান্না করুন, বাগান করুন, আপনার শখের কোনো কাজে মন দিন, কাজ শেষ করে তালিকায় টিক চিহ্ন দিন।

ফোন সঙ্গে রাখলে এটা টয়লেটে বা খাবারের সময় ফোনের দিকে মনোযোগ দেয়ার মতো খারাপ অভ্যাসকে উৎসাহ দেয়। ডিভাইসগুলো দূরে থাকলে মুহূর্তগুলোকে অন্বেষণ করতে এবং আপনি কী করছেন, সেদিকে আরো বেশি মনোযোগ দিতে সহায়তা করে। ডিভাইসগুলোতে কী ঘটছে তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

স্ক্রিনের বাইরে বিরক্তির অভিজ্ঞতা সৃজনশীলতার প্রাকৃতিক পথ। এই বিরক্তি আপনার ফেলে রাখা কাজ শেষ করতে অনুপ্রাণিত করবে। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্কে অত্যধিক ডোপামিন প্রবাহিত হয়, যা আসক্তি, মেজাজ পরিবর্তন, মানসিক চাপ বৃদ্ধি এবং ঘুমাতে অসুবিধা সৃষ্টি করে। স্ক্রিনের বাইরে থাকলে এগুলো থেকে আপনাকে সেরে উঠতে সহায়তা করবে। এছাড়া স্ক্রিনবিহীন সময় আপনাকে কী অর্জন করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে সেগুলো ভেবে দেখার সুযোগ করে দিতে পারে।

এছাড়া পরিবারের সবাইকে বলে একই সঙ্গে ডিভাইসমুক্ত সময় ব্যয় করুন। হতে পারে সেটা নির্দিষ্ট কোনো দিন, একটা বিকাল বা সন্ধ্যা। দেখবেন নতুন এক পরিবার খুঁজে পেয়েছেন। আর ঘুমের আগে স্ক্রিনবিহীন কয়েক ঘণ্টা কাটালে সেটা আপনাকে বিছানায় দারুণ ঘুম উপহার দেবে।

সুতরাং আপনার ফোন, ট্যাবলেট বা স্ক্রিনে আপনি যা পড়ছেন তা নিচে রাখুন। উঠে পড়ুন, চোখকে প্রসারণ দিতে দূরে কিছুটা দেখুন এবং অন্যকিছু করুন। এর জন্য আপনার শরীর ও মস্তিষ্ক আপনাকে ধন্যবাদ জানাবে।

স্ক্রল ডটইন