করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে চলমান লকডাউনে ঘরে আটকে থাকতে হচ্ছে মানুষকে। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো। আর এতে খাবার সংকটে ভুগছে কুকুর, পাখি ও বানরের মতো রাস্তার প্রাণীগুলো। কিন্তু প্রাণীপ্রেমী কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা এ লকডাউনের মধ্যেও এমন প্রাণীদের খাবার সরবরাহ করে যাচ্ছেন।
এমনই একজন সানযুক্তা লাল। দক্ষিণ ভারতের পুডুচেরি শহরের বিভিন্ন জায়গায় তিনি কুকুরদের জন্য খাবার সরবরাহ করেন। প্রতিদিনের মতো তিনি সেদিন কুকুরদের জন্য মুরগি ও ভাত প্রস্তুত করেছিলেন। লাল এমনই একজন প্রাণীপ্রেমী, যারা ভারতের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ৩৫০ লাখ কুকুরের দেখাশোনা করেন। গত ২৫ মার্চ থেকে দোকান ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কুকুরগুলোর খাবারের উৎস আবর্জনার স্তূপও বন্ধ হয়ে যায়।
এ সমস্যাটি অনুমান করে ভারতীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ড লকডাউনের দুদিন আগে একটি চিঠি জারি করে ঘোষণা দিয়েছিল, ‘সহচর ও দলছুট প্রাণীদের খাওয়ানো একটি অত্যাবশ্যক পরিষেবা।’
চিঠিটি লকডাউন চলাকালীন রাস্তার প্রাণীদের খাবার দেয়ার জন্য মানুষদের উৎসাহিত করেছিল।
দিল্লি, জয়পুরসহ আরো বেশ কয়েকটি শহর ‘ফিডার পাস’
জারি করেছে। এতে রাস্তার প্রাণীদের খাওয়ানোর জন্য মানুষরা বাড়ি থেকে বের হতে পারেন।
বার্ক ইন্ডিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের স্বেচ্ছাসেবক লাল কুকুরদের খাওয়ানোর জন্য মাঝেমধ্যে রাত ১টা পর্যন্তও বাইরে থাকেন। তার মতো স্বেচ্ছাসেবকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যদিও খাদ্য সংকটে থাকা প্রাণীদের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, এমন কুকুরও থাকে, যারা টানা সাতদিন ক্ষুধার্ত থাকে। পরে অষ্টম দিনে গিয়ে খাবার পায়। পুডুচেরি শহরের প্রায় আড়াই লাখ বাসিন্দা ঘরে বসে আছে। এতে কুকুরগুলো আরো স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে উঠেছে এবং পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ রাস্তায় একটি গাড়িও চলে না।
সানযুক্তা লালের মতো ১১০ কোটির বেশি জনসংখ্যার দিল্লি শহরে রাস্তার প্রাণীদের খাবার সরবরাহ করেন হূষিৎ শর্মা। তিনি বলেন, কুকুরগুলো এখন আরো বেশি অঞ্চলভিত্তিক ও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। এটা উদ্বেগজনক, কারণ জলাতঙ্ক সংক্রমিত কুকুরগুলো মানুষকে কামড় দিয়ে তাদের মধ্যে সংক্রমণ করতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভরতে প্রতি বছর ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
আর মহামারী বা অন্য যেকোনো সময় এমন ক্ষুধার্ত প্রাণীদের খাওয়ানো সর্বজনস্বীকৃত নয়। তাজমহলের জন্য বিখ্যাত আগ্রা শহরে কিছু অ্যাপার্টমেন্টে কুকুরদের খাওয়ানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের হয়রানি করা হয়েছিল।
তার পরও স্বেচ্ছাসেবকরা এ কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রাণীদের দুর্দশার বিষয়ে সাধারণ মানুষদের সচেতনতা বাড়িয়ে দিয়েছে। আশা করা যায়, লকডাউন শেষেও মানুষ এভাবেই ক্ষুধার্ত প্রাণীদের পাশে থাকবে। পুডুচেরিতে লাল লক্ষ করেছেন অনেক পরিবার রাস্তার প্রাণীদের জন্য তাদের বাড়ির বাইরে প্রতিদিন খাবার রেখে দেন। পুরো দেশেই হয়তো এমন করা হচ্ছে। তবে সেটা প্রাণীদের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। এজন্য ক্ষুধার্ত প্রাণীদের খাবার দিতে প্রত্যেক পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সানযুক্তা লাল।
হূষিৎ শর্মা বলেন, আমার বাড়ির গলিতে একটা কুকুর আছে এবং গতকাল আমি তাকে খাওয়াতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানকার একজন প্রহরী জানাল, কুকুরটি কিছু খাচ্ছে না। পরে দেখলাম আসলে প্রত্যেকেই ভাবেন যে কুকুরটি খাবার পাচ্ছে না, এজন্য তারা খাবার দিয়ে যান। এ কারণে কিছুক্ষণ পর পর কুকুরটি খাবার পাচ্ছে।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক





