৪ এপ্রিল একদিনে ৭৫ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হন সিঙ্গাপুরে, যা ওইদিন পর্যন্ত একদিনে দেশটিতে সর্বোচ্চ ছিল। কর্তৃপক্ষ তখনই অভিবাসী শ্রমিকদের ডরমিটরিতে তত্পরতা শুরু করে এবং সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাড়িয়ে দেয়। এসব ডরমিটরি সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী জোসেফাইন টোয়ের মতে, সিঙ্গাপুরে ৪৩টি ডরমিটরিতে অন্তত দুই লাখ শ্রমিক বসবাস করেন।

এসব ডরমিটরির পরিবেশ কতটা উন্নত হতে পারে তা যে কেউ অনুমান করে নিতে পারেন। প্রতিটি রুমে বাস করেন ১০ থেকে ২০ জন শ্রমিক। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রতি শ্রমিকের জন্য বরাদ্দ ৪৮ বর্গফুট জায়গা। তার মানে, একটি রুমের আকার ৪৮৪ থেকে ৯৬৮ বর্গফুট।  

সিএনএনের কাছে পাঠানো এক ভিডিওতে দেখা যায়, শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে ঘুমিয়ে আছেন এবং একজন আরেকজনের চেয়ে সামান্য দূরত্বে। এসব শ্রমিকের অধিকাংশই পুরুষ এবং এসেছেন অনুন্নত দেশ থেকে। এরা রুম ভাগাভাগির পাশাপাশি একই বাথরুম ও টয়লেট ব্যবহার করেন অনেকে। পাশাপাশি একই দড়িতে কাপড় শুকাতে দেন এবং লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করে থাকেন। কাজেই এখানে সঙ্গনিরোধ থাকা কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কোনোভাবেই সম্ভব না। এ কারণেই ডরমিটরিতে খুব দ্রুত নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটছে।

সিঙ্গাপুরের অলাভজনক সংস্থা টিডব্লিউসিটুর ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্স উ মনে করেন, ঝুঁকির বিষয়টি সরকার উপেক্ষা করে গেছে এবং যখন অভিবাসী শ্রমিকদের সতর্ক করা হয়েছে ততক্ষণে বেশ দেরি হয়ে গেছে।

সিএনএন