২০০৯ সালে মহামারী ফ্লু ভাইরাস যখন বিশ্বব্যাপী লাখো মানুষকে সংক্রমিত করছিল, তখন ম্যাথিউ মেমোলি স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবকদের পরিকল্পিতভাবে ফ্লু জীবাণুর সংস্পর্শে আনার পরিকল্পনা করতে শুরু করেন। প্রস্তাবটি যথেস্ট বিরোধিতার মুখে পড়েছিল। বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় ভাগ হয়ে গিয়েছিল এ উদ্যোগটি নৈতিকভাবে ঠিক নাকি ভুল সে বিষয়ে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের (এনআইএআইডি) ক্লিনিক্যাল স্টাডিজ ইউনিটের পরিচালক হিসেবে মেমোলি ফ্লুর এ চ্যালেঞ্জ ট্রায়ালের মূল্যকে বুঝতে পেরেছিলেন এবং এ রকম ট্রায়াল সংঘটিত হওয়ার নজিরও ইতিহাসে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান ভ্যাকসিন এবং বেশির ভাগ অ্যান্টিভাইরাল, যা ফ্লুর ক্ষেত্রে ব্যবহূত হয় তা বিকশিত হয়েছিল
চ্যালেঞ্জ অধ্যয়নের অংশ হিসেবে। কিন্তু সে সময় ২০১০ সালে তিনি যখন অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন, তখন ফ্লু চ্যালেঞ্জ নিয়ে কেউ গবেষণা করেছেন তার এক দশক পার হয়ে গেছে।
তিনি ফ্লু মহামারী মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জ ট্রায়ালের পদ্ধতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করেন। তিনি সে সময় বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে তর্ক করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, নিয়ন্ত্রিতভাবে সংস্পর্শে আসার ফলে এটা বোঝা যাবে যে যখন কোনো মানুষ বাস্তব পৃথিবীতে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসবে তখন আসলে কী ঘটতে পারে। এর ফলে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীর ইমিউন প্রতিক্রিয়া এবং ওষুধের পরীক্ষা, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রচলিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে খুব স্বল্প পরিমাণ মানুষের প্রয়োজন হয়। শেষ পর্যন্ত ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এবং দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (এনআইএইচ) নৈতিকতা পর্যালোচনা পর্ষদ তার সঙ্গে একমত পোষণ করে এবং তখন তিনি একটি চ্যালেঞ্জ মডেল গঠন করেন এইচ১এন১-এর ওয়াইল্ডটাইপ স্ট্রেইন ব্যবহার করে। যেখানে অংশগ্রহণ করে চারশর বেশি স্বেচ্ছাসেবী। মেমোলি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এটাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমি একটি লক্ষ্যে পৌঁছাতে মানুষজনকে ভাইরাসে আক্রান্ত করেছিলাম। এটা কোনো কৌতুকের বিষয় না। আমি যা করছিলাম তা খুবই মারাত্মক একটি কাজ ছিল। আমি এটা তখনই করব যখন সত্যিকার অর্থেই এটি কোনো সুবিধা দেয়।
দশ বছর পর, মেমোলি এখন আরো একবার কাজ করছেন অন্য একটি মহামারীর বিরুদ্ধে একটি মানবিক চ্যালেঞ্জ মডেল বানানোর জন্য। এবার ভাইরাসটি হচ্ছে সার্স-কোভ-২। তিনি বলেন, এটা এখনো নিশ্চিত নয় যে এটি কি ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হবে, নাকি এটি কভিড-১৯-এর থেরাপির জন্য ব্যবহূত হবে। তবে আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে আমাদের এটি করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
কভিড-১৯ মহামারীর শুরুর দিনগুলো থেকে একটি বিতর্ক সামনে চলে এসেছিল। সেটি ছিল কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের চ্যালেঞ্জ (স্টাডি) গবেষণা চালিয়ে নেয়া হবে কিনা। জুন মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি উপদেষ্টা দল একটি নির্দেশনা প্রদান করে কীভাবে ট্রায়ালগুলো ডিজাইন করতে হবে সেটি নিয়ে। কিন্তু নৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় কিনা তা নিয়ে কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। গত মাসের শেষ দিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, যুক্তরাজ্য সরকার ভ্যাকসিন চ্যালেঞ্জ ট্রায়ালকে বিবেচনা করছে। যা শুরু হতে পারে আগামী বছরের প্রথম দিকে।
সার্স-কোভ-২ ছাড়াও আরো অনেক রোগজীবাণুর জন্য চ্যালেঞ্জ গবেষণা এরই মধ্যে ভ্যাকসিন এবং থেরাপির আবিষ্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেমোলি বলেন, সত্যি বলতে আমি মনে করি, চ্যালেঞ্জ গবেষণা আরো অনেক বেশি গৃহীত হওয়া উচিত। যখন আমি ফ্লু চ্যালেঞ্জ শুরু করি আমি মনে করি সেটা একটা পুনরুত্থান ছিল।
দ্য সায়েন্টিস্ট





