ফেসবুক বা টুইটারের মতো প্লাটফর্মগুলো খুব কমই কন্টেন্ট মনিটরিং করে। এজন্য ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এগুলো খুবই কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহূত হয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে নীতিজ্ঞানবর্জিত প্রতারকরা তিনটি মূলনীতি অনুসরণ করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়—গতি, ধারাবাহিকতা ও অসংগতি। তথ্যগুলো দ্রুত ছড়িয়ে দেয়ার কার্যকর উপায় হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যানুয়ালি বা কম্পিউটারের মাধ্যমে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রোফাইল নিয়ন্ত্রণ করা।
এ ধরনের অ্যাকাউন্টকে বট বলা হয় (যা ওয়েব রোবটের সংক্ষিপ্ত রূপ), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলো কয়েক মিলিয়ন পাওয়া যায় এবং তারা বিপুল পরিমাণ ভুল তথ্যের উৎপাদক। তারা তথ্যগুলো এত বিস্তৃতভাবে প্রচার করে যে মানুষজন সেগুলোকে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। কানাডিয়ান জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সুরক্ষা বিশ্লেষক স্টিফানি কারভিনের মতে, রাশিয়ান বটগুলো বর্তমানে দুটি বিশেষত বিপজ্জনক মিথ্যা তত্ত্ব প্রচার করছে। প্রথমত জৈবিক অস্ত্র হিসেবে করোনাভাইরাস গবেষণাগারে সৃষ্টি এবং দ্বিতীয়টি হলো নতুন ৫জি টাওয়ারগুলোর ক্ষতিকারক প্রভাবগুলো ঢাকতে মহামারীর ধারণাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বা টাওয়ারগুলো নিজেরাই ভাইরাস ছড়াচ্ছে।
হার্ভাডের সমাজবিজ্ঞানী কার্লির মতে, বর্তমানে টুইটারে কভিড-১৯ সম্পর্কিত প্রায় ৭০ শতাংশ কার্যকলাপের জন্য বট দায়ী এবং ভাইরাস সম্পর্কিত তথ্য ছড়ানো ৪৫ শতাংশ অ্যাকাউন্টগুলো আসলে বট। এ তত্ত্বগুলোর সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য শ্রোতারা হলেন ভ্যাকসিনবিরোধী অ্যাক্টিভিস্ট, ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিক ও নতুন প্রযুক্তি এড়িয়ে চলা টেকনোফোবরা।
কভিড-১৯ ভাইরাসের পরীক্ষাগার ধারণাবিষয়ক তত্ত্বটি শেয়ার করার ক্ষেত্রে বটগুলো আলাদা মতাবলম্বী। জনসাধারণের মতে, এই গল্পটি বলা হচ্ছে, তবে উৎস দেশের নাম পরিবর্তিত হচ্ছে। কিছু তত্ত্ব দাবি করে, ভাইরাসটি চীনের উহানের একটি পরীক্ষাগারে তৈরি হয়েছিল। আবার অন্যরা বলেন, উহান শহরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আগে এটা আমেরিকার একটি সামরিক পরীক্ষাগারে তৈরি হয়েছিল।
অধ্যাপক সারাহ এভার্টের সাম্প্রতিক অটোয়া জরিপে দেখা গেছে, এই তত্ত্বটি প্রায় ২৬ শতাংশ কানাডিয়ান সমর্থন করে। ডেটামেট্রিক্স টুল ব্যবহার করে কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৫০ লাখেরও বেশি প্রকাশনা অধ্যয়ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যা সামাজিক মিডিয়ায় রাশিয়ান বা চীনা বটগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিল।
৫জি থিওরি সম্পর্কে কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে প্রকাশিত হয়েছে, প্রায় ১১ শতাংশ কানাডিয়ান বিশ্বাস করে যে কভিড-১৯ বাস্তব বা গুরুতর ভাইরাস নয়, মহামারীটি মানুষের ওপর ৫জি টাওয়ারের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলো ঢাকতে ব্যবহূত হচ্ছে। এ থিওরির কারণে সমগ্র ইউরোপে টেলিযোগাযোগ ইনস্টলেশনের বিরুদ্ধে অসংখ্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
কিন্তু কেন ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং কেন রাশিয়ানরা এটিকে এত বেশি ব্যবহার করছে? রাশিয়ার বৈদেশিক নীতি তার নিজস্ব স্বার্থের দিকেই কেবল গুরুত্ব দেয়। মিথ্যা তথ্যের ব্যবহারটি তাদের সেই আগ্রহগুলোই তুলে ধরার উদ্দেশ্যে। রাশিয়া যদি ৫জির বিরুদ্ধে তত্ত্বগুলো উসকে দেয়, তবে সম্ভবত তার দেশটি এই স্থাপনাগুলো কমিয়ে দেবে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষতি করবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাশিয়ার কোনো ‘বন্ধু’ নেই, কেবল মিত্র আছে এবং যতক্ষণ তারা মস্কোর স্বার্থ সংরক্ষণ করে।
স্ক্রলডটইন





