কভিড-১৯ লকডাউনের নীতি কৌশল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্বব্যাপী দানা বাঁধছে আন্দোলন। সেই আন্দোলনে এবার যুক্ত হলেন কয়েক হাজার বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

আন্দোলনে যুক্ত হওয়া ৬ হাজার বিশেষজ্ঞ, এর মধ্যে অন্তত ২০ জন আছেন যুক্তরাজ্যের। তারা বলছেন, বিভিন্ন দেশের লকডাউন নীতি কৌশল উল্টো মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলছে। সেই সঙ্গে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে সমাজেও।

তারা সরকারগুলোকে অধিকতর সংক্রমণপ্রবণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার প্রতি বেশি নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তারা বলছেন, লকডাউনের ক্ষেত্রে খুবই লক্ষ্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ অরক্ষিত জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরো কঠিন করে তুলতে পারে। 

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হবে বলে একটা অনুমান প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তার মানে এ মহামারীর কারণে সংক্রমণের বাইরে অন্যরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীদের গ্রেট ব্যারিংটন ডিক্লারেশন- শীর্ষক ঘোষণায় যুক্তরাজ্যের পেশাদার চিকিৎসকদের একটি গ্রুপের উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ওই গ্রুপটি এ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছেন।

সেলিব্রেটি চিকিৎসক ডা. ফিল হ্যামন্ড এবং ডা. রোজমেরি লিওনার্ডসহ ৬৬ জন পেশাদার চিকিৎসকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কভিড-১৯ সংশ্লিষ্টতার বাইরের ক্ষতিকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না।

লকডাউন বিরোধী এ আন্দোলন শুরু হয়েছে মূলত যুক্তরাষ্ট্রে। সেটি থেকেই ‘গ্রেট ব্যারিংটন ডিক্লারেশন’ ঘোষিত হয়েছে। এ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন প্রায় ৬ হাজার বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। এছাড়া এতে স্বাক্ষর করেছে আরো ৫০ হাজার সদস্য।

এই আন্দোলনের সমর্থকরা বলছেন, ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত লকডাউন বলবত রাখার যে নীতি তা পিছিয়ে পড়া বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অপূরণীয় ক্ষতি করবে।

এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত ক্ষতির যেসব দিক তারা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো:

শিশুদের টিকা গ্রহণ হারে পতন

হৃদরোগ এবং ক্যানসারের রোগীদের চিকিৎসা সেবা মারাত্মক ব্যাহত হওয়া

তারা আরো বলছেন, বয়স্ক এবং দুর্বল স্বাস্থ্যের মানুষের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি হাজারগুণ বেশি। যেখানে শিশুরা আবার কভিড-১৯ এর চেয়ে ফ্লু জাতীয় রোগের বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে কভিডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) তৈরি হচ্ছে। দুর্বলদের পাশাপাশি সবার ক্ষেত্রেই সংক্রমণ ঝুঁকি কমছে। 

সংক্রমণপ্রবণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা কিছু পরামর্শও দিয়েছেন। এর মধ্যে কেয়ার হোম বা বৃদ্ধাশ্রমের কর্মীদের নিয়মিত পরীক্ষা করানো; যাদের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে গেছে তাদেরকে দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনাতে গুরুত্ব দিতে হবে; অবসরপ্রাপ্ত যারা বাড়িতে থাকছেন তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ঘরে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে; আর তারা স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে সম্ভব হলে সেটি করতে হবে ঘরের বাইরে; সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি যেমন, হাতধোয়া, অসুস্থ হলে ঘরে থাকা এসব নিয়ম মানার ক্ষেত্রে সবাইকে অভ্যস্ত হতে হবে।

কিন্তু 

কম সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের বাইরে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে দিতে হবে

সরাসরি পাঠদানের জন্য স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে হবে

খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালাতে দিতে হবে। খুলতে হবে রেস্টুরেন্ট।

সূত্র: বিবিসি