নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী ল্যাবরেটরিতে অসংখ্য গবেষণা চলছে।
সম্প্রতি এক স্টাডিতে বিশেষজ্ঞরা দেখতে পেয়েছেন, সার্স-কোভ-টু ভাইরাসে কখনই সংক্রমিত হননি এমন অনেক স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিদের রক্তের নমুনায় ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো ইমিউনিটি থাকে এবং তাদের শরীরের রিঅ্যাক্টিভ ইমিউন সেল কভিড-১৯ থেকে রক্ষা করতে পারে।
এটা এখনো অনেকটাই অনুমানের পর্যায়ে।
যদি সঠিক হয় তবে এটা খুবই সম্ভব যে এই ইমিউনিটি এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষকে প্রাণঘাতী কভিড-১৯ রোগটি থেকে রক্ষা করেছে।
‘টি’
সেল নামক সাদা রক্তরসের মাধ্যমে আসা এই ইমিউনিটি শরীরের সংক্রমিত সেলকে ধ্বংস করে কিংবা আক্রমণকারী প্যাথোজেনকে ধ্বংস করতে ইমিউন সিস্টেমের অন্য অংশকে সাহায্য করে।
জার্মানির একদল বিজ্ঞানী করোনাভাইরাসে নেগেটিভ ৬৮ জন স্বাস্থ্যবান মানুষের রক্তের নমুনা নিয়ে দেখতে পান, এদের মধ্যে ২৪ জনেরই রক্তের মধ্যে অল্পসংখ্যক ‘টি’ সেলের উপস্থিতি রয়েছে, যা সার্স-কোভ-টুর স্পাইক প্রোটিনকে সামনে পেলেই সক্রিয় হয় এবং তাকে প্রতিরোধ করে।
২৯ জুলাই নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেলগুলো তাদের উপরিভাগে প্রোটিন তৈরি করে, যা কিনা ইমিউন রেসপন্সের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
যদি প্রকৃতপক্ষে তাই হয় তবে এখন কী ঘটছে? একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে, স্বাস্থ্যবান ডোনার হয়তো সম্প্রতি অন্য কোনো করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন, যেগুলো সাধারণ ঠাণ্ডার জন্য দায়ী।
এমনটি বলছেন সংশ্লিষ্ট গবেষণার সহলেখক আন্দ্রেয়াস থিয়েল, যিনি বার্লিনের চ্যারিটে হাসপাতালের একজন ইমিউনোলজিস্ট।
কভিড-১৯ ও সার্সের মতো ভয়ংকর রোগ ছাড়াও দশকের পর দশক মানুষ অন্য করোনাভাইরাস দ্বারাও সংক্রমিত হয়ে আসছে, যা কিনা সচরাচর হালকা সংক্রমণ ঘটায়।
থিয়েল বলেন, ‘যদিও এই ভাইরাস পুরোপুরি সার্স-কোভ-টুর মতো নয়, তবু অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে ইমিউন সিস্টেমের সাড়া প্রদানের জন্য অল্প পরিমাণ সাদৃশ্যই যথেষ্ট।’
এর আগে ১৫ জুলাই নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত সিঙ্গাপুরের এক স্টাডিতে বলা হয়, ১৭ বছর আগে আদি সার্সে সংক্রমিত হয়েছেন এমন ২৩ জন রোগী ও সার্স কিংবা কভিড-১৯ কোনোটি দ্বারাই কখনো সংক্রমিত হননি এমন আরো ৩৭ জন ব্যক্তির মধ্যে সিডি৪+ সাহায্যকারী ‘টি’ সেল এবং সিডি৮+ বিনাশকারী ‘টি’ সেল দেখতে পাওয়া গেছে, যা কিনা সার্স-কোভ-টু নিউক্লিওক্যাপসিড (এন) প্রোটিনের বিরুদ্ধে সাড়া দেয়।
গবেষক দলের নেতা ও সিঙ্গাপুরের ডিউক-এনইউএস মেডিকেল স্কুলের ইমিউনোলজিস্ট নিনা লি বার্ট বলেছেন, থিয়েলের কাজ ও অন্য কিছু স্টাডির সঙ্গে তার প্রতিবেদনের সাদৃশ্য রয়েছে, যেসব স্টাডিতে দেখা যায় কখনই কভিড-১৯ দ্বারা সংক্রমিত হননি কিংবা মহামারীর আগে নমুনা দিয়েছেন এমন ব্যক্তির রক্তের মধ্যেও সার্স-কোভ-টুর বিরুদ্ধে সাড়া প্রদানকারী ‘টি’ সেল রয়েছে।
নেচার সাময়িকীতে ৪ আগস্ট প্রকাশিত স্টাডিও বলছে, মহামারীপূর্ব সময়ে নমুনা দেয়া ২৫ ব্যক্তির রক্তেও সার্স-কোভ-টুর বিরুদ্ধে সাড়া প্রদানকারী ‘টি’ সেলের দেখা মিলেছে।
তারা দেখতে পান, সার্স-কোভ-টু এপিটোপের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ সাধারণ ঠাণ্ডার করোনাভাইরাস এপিটোপের বিরুদ্ধেও ‘টি’ সেল সাড়া দেয়।
এখান থেকে তারা এ ধারণা করছেন যে হয়তো এমন সাধারণ করোনাভাইরাস আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে দিয়েছে, যা এখন নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সাড়া দিচ্ছে।
লি বার্ট মনে করেন, কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে ‘টি’ সেল সত্যিই সুরক্ষা দিতে পারে কিনা তা নির্ধারণ করা একটু কঠিনই।
তার কথায়, ‘মানুষ সংক্রমিত হওয়ার আগে ও পরে আপনাকে স্টাডি করতে হবে।’
লি বার্ট যোগ করেন, কিছু মাত্রায় ইমিউনিটি থাকার মানে এই নয় যে সেই মানুষ ভাইরাসটি দ্বারা নিশ্চিতভাবেই সংক্রমিত হবেন না।
তাদের ইমিউন সিস্টেম ভাইরাসকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও তাদের মধ্যে হালকা কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
থিয়েল জানান, ‘টি’ সেল কখনো কখনো বিপরীত ফলও নিয়ে আসতে পারে।
ক্ষতিকর ইমিউন রেসপন্স পরিশেষে রোগীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, যখন কেউ মাত্রাতিরিক্ত প্রদাহে ভোগেন কিংবা ভাইরাসকে দূর করতে সমর্থ না হন তখন তা ক্ষতির কারণ হতে পারে।
থিয়েল বলেন, ‘হয়তো নির্দিষ্ট কিছু বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এমন ক্রস-রিঅ্যাক্টিভ ‘টি’ সেল খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে।’
দ্য সায়েন্টিস্ট





