নভেল করোনাভাইরাসের কারণে চলা লকডাউনে ভারতজুড়ে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো স্থগিত হয়ে গেছে। তবে কিছু কাপল লকডাউনের কারণে বিশাল আয়োজনের পরিবর্তে ছোট পরিসরে বিয়ের আয়োজন শেষ করছেন। সুতরাং এটিই কি নতুন স্বাভাবিকতা?
ছয় বছর আগে কলেজে দেখা হয়েছিল নীতিন অরোরা ও চৈতালী পুরীর এবং এক বছর পর তারা প্রেম শুরু করেছিলেন। মে মাসের প্রথম দিকে তারা বিয়ের তারিখ ঠিক করেছিলেন। মার্চে বাগদান পার্টির মধ্য দিয়ে তাদের বিয়ের আয়োজন শুরু হয়েছিল। ১৭০ জনের উপস্থিতিতে চণ্ডীগড় শহরের একটি পশ ক্লাবের লনে জাঁকালো আয়োজনে এ পার্টি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
২ মে তাদের বিয়ের জন্য শহরের উপকণ্ঠে একটি বিস্তৃত রিসোর্ট ভাড়া করা হয়েছিল। তিন দিনব্যাপী উদযাপনের জন্য বিবাহপূর্ব ককটেল পার্টি, সংগীত, নৃত্যসহ নানা আয়োজন ছিল। নীতিন আর চৈতালী অপেক্ষা করছিলেন এ আশায় যে নিষেধাজ্ঞাগুলো সহজ হবে এবং তারা বিয়ের অনুষ্ঠান করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু লকডাউন প্রত্যাহারের কোনো চিহ্ন না থাকায় তারা বিয়েটি নভেম্বরের দিকে পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
নীতিন বলেন, ১ মে দুপুরে আমার বাবার এক বন্ধু ফোন করে বলেন, আমি যদি ২ মে বিয়ে করতে চাই তবে তিনি চণ্ডীগড় থেকে দিল্লিতে যাওয়ার কারফিউ পাসের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ পাসটি পাওয়া গেল। তখন মনে হলো সব অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলেও বিয়েটা হচ্ছে। এরপর একজন পুরোহিত খুঁজে বের করতে সাড়ে ৭টা বেজে যায়। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মা-বাবা ও ভাইকে নিয়ে দিল্লিতে পৌঁছেছিলাম। বেলা ১১টা থেকে বিয়ের আয়োজন শুরু হয়।
কনে চৈতালী হেসে বলেন, বাড়িতে আমার ঘরটিই বিয়ের ভেনুতে পরিণত হয়েছিল। আমি আমার মায়ের ম্যাজেন্টা শাড়ি এবং দাদির গহনা পরেছিলাম। আর বিয়েতে কেবল পরিবারের সদস্যরায় উপস্থিত ছিলেন।
এভাবেই এখন ছোট ও ঘরোয়া পরিবেশে ভারতে বিয়ের আয়োজনগুলো সম্পন্ন হচ্ছে। মহামারীর এ সময়ে এটিই সম্ভবত নতুন স্বাভাবিকতা।
বিবিসি





