কভিড-১৯ মহামারী এ বছরের শুরুর দিকে যখন আঘাত হানে, তখন ফিলাডেলফিয়ার ছোট ওষুধ কোম্পানি একটি যৌগ বাজারজাত করার জন্য সংগ্রাম করছিল, যা কিনা রোগীদের তাদের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে সাহায্য করতে পারে।
পারাটেক ফার্মাসিউটিক্যাল ওমাডাসাইক্লিন (নুযায়রা) নামের একটি অ্যান্টিবায়োটিকের বিকাশ ও পরীক্ষায় ২০ বছর পার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে যেটি ২০১৯ সালে বিক্রি করা শুরু করেছিল, যা ব্যবহূত হয় ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে। যদিও অ্যান্টিবায়োটিক কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না। রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় ১৫ শতাংশের মাঝে ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া বিকশিত হয়, যাদের কেউ কেউ প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।
কভিড-১৯-এর আগেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে বিশ্বে প্রতি বছর সাত লাখ মানুষ মারা যায়। সেই সংখ্যা এখন বৃদ্ধি পাবে যখন ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা গৌণ সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবে। এসব ক্ষেত্রে ওমাডাসাইক্লিন সাহায্য করতে পারে, যদি এটি সময়মতো মানুষকে সরবরাহ করা যেতে পারে জীবন বাঁচানোর জন্য।
পারাটেকের প্রধান নির্বাহী ইভান লোহ বলেন, কভিড আমাদের সতর্কবার্তা দিচ্ছে। ডায়াগনস্টিক, অ্যান্টিবডি, ভ্যাকসিন—মহামারীর প্রস্তুতির জন্য এসব প্রয়োজন। আমাদের অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন, যা মানুষকে নির্দিষ্ট সংক্রমণ থেকে বাঁচার সেরা সুযোগটা প্রদান করবে। কিন্তু যেসব ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি অ্যান্টিবডি উৎপাদন করে তারা অভিনব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
একটি প্যারাডক্স হলো অ্যান্টিবায়োটিকগুলো বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে লাভজনক ওষুধ সংস্থাগুলোর বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে। পাশাপাশি এটি সমাজের অত্যন্ত প্রয়োজনগুলোর একটি। তাদের বাজারও এখন ভেঙে পড়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে বড় করপোরেশনগুলো যারা অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারে আধিপত্য দেখিয়েছিল তারা এখন ব্যবসা থেকে সরে আসতে শুরু করেছে। তাদের মতে, তারা জীবন রক্ষাকারী ওষুধের জন্য যে মূল্য নির্ধারণ করে তা ওষুধ তৈরিতে যে খরচ সে তুলনায় খুব কম। ফলে গত দুই বছরে চারটি সংস্থা দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। পারাটেক অবশ্য এখন পর্যন্ত নিজেদের গা বাঁচিয়ে চলেছে, যা কিনা অন্য অনেককে টেনে নামিয়েছে। রক্ষণশীল ব্যয়, অভিজ্ঞতা ও সৌভাগ্যের সমন্বয়ে তারা গত বছর লাভজনক সরকারি চুক্তিও করেছে। কিন্তু ওমাডাসাইক্লিনের উপার্জন স্থিতিশীল হলেও তা পারাটেককে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার নিশ্চয়তা দেয় না।
সাবেক ফার্মাসিউটিক্যাল নির্বাহী ডেভিড শালেস বলেন, দিন শেষে পারাটেককে কিন্তু ওষুধ বিক্রি করতে হবে এবং এটি স্পষ্ট নয় যে লাভের জন্য তারা যথেষ্ট পরিমাণে ওষুধ বিক্রিতে সক্ষম হবে কিনা।
খরুচে ব্যবসা
নতুন একটি অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে আনা দারুণ একটি প্রচেষ্টাকে প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রথম পর্যায়ে ট্রায়ালে কেবল ১৪ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিকের অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একটি দলের হিসাবমতে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অ্যাক্টিভ ড্রাগ মলিকিউলের প্রথম স্বীকৃতি থেকে এফডিএর অনুমোদন পেতে খরচ হয় ১.৪ বিলিয়ন ডলার। অনুমোদনের পর আরো লাখ লাখ টাকা খরচ হয় বাজারজাত ও পর্যবেক্ষণের জন্য। আবার অনেক ক্ষেত্রে ছোট কোম্পানিগুলোর নতুন ওষুধ প্রতিশ্রুতিশীল মনে হলে বড় কোম্পানিগুলো তা কিনে নিয়েছে। এই ক্রয়মূল্য ছোট কোম্পানিগুলোকে ঋণমুক্ত করে। ব্যবসার এ মডেল অবশ্য এখন আর নেই।
অনেক অ্যান্টিবায়োটিক আবার শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে নিতে হয়। যা একটি সীমাবদ্ধতা। এ ধরনের ওষুধ সাধারণত হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারগুলোয় দেয়া
হয়। ফলে এটি দামি এবং সবার জন্য উপলব্ধ হয় না।
সীমিত জীবৎকাল
অ্যান্টিবায়োটিক একটি স্থায়ী অর্থনৈতিক ধাঁধা তৈরি করে। এ ওষুধ বিশ্বকে বদলে দিতে পারে। তাদের অনন্য এ শক্তি সত্ত্বেও মুক্তবাজার তাদের মূল্যায়িত করে না।
কারণগুলো বেশ জটিল। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াকে হত্যা করে, যা ক্রমাগত তাদের বেঁচে থাকার বিরুদ্ধে হুমকির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। একটি নতুন যৌগ প্রদান করা মাত্র রোগজীবাণুগুলো কৌশল বানচাল করার জন্য আক্রমণ করে। এর অর্থ অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকর জীবন ও এর অর্জন সীমিত হতে পারে। এ রকম পরিস্থিতি অন্য ওষুধের ক্ষেত্রে হয় না।
নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের জীবৎকাল গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে যদি একটি কোম্পানি এর অনেকগুলো দ্রুত বিক্রি করতে পারে। তবে কাঠামোগত ও নৈতিক দুটি বাধা এর বিরুদ্ধে কার্যকর হয়।
একটি হিসাবমতে, একটি নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে হয় টেকসই হওয়ার জন্য। শালেস বলেন, এ বাজারে সম্ভবত একটি ওষুধের জন্য স্থান রয়েছে। যদি বিনিয়োগ তুলে আনতে হয় তবে এখানে সম্ভবত একটির বেশি ওষুধের জায়গা নেই।
এদিকে মহামারীর কারণে অনেক অ্যান্টিবায়োটিকের সরবরাহেও ঘাটতি দেখা গেছে। যা আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া বাজারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। এদিকে ট্রাম্প হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মিশ্রণের সমর্থনে কথা বলার পর, অ্যাজিথ্রোমাইসিনের অনেক প্রস্তুতকারক কোম্পানি বলেছে, উদ্বিগ্ন হয়ে কেনার ফলে ওষুধের সংকট দেখা গেছে।
নেচার থেকে সংক্ষেপে অনূদিত





