করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব যেখানে বজায় রাখা কঠিন, সেখানে মাস্ক ব্যবহার করোনা সংক্রমণ হ্রাস করতে সহায়তা করে। এজন্য লম্বা সময় পর্যন্ত আমাদের এ মাস্ক পরেই চলতে হবে। লকডাউন পরিস্থিতি থেকে বিশ্ব যখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে তখনো অফিসের মতো জায়গাগুলোতে মাস্ক পরার সময়কাল আরো বাড়বে।
কভিড-১৯ মোকাবেলায় এ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলো অপরিহার্য হলেও ফেস মাস্কের কারণে অনেকেরই চোখ শুষ্ক হয়ে উঠছে এবং অস্বস্তি অনুভব হচ্ছে। এ সমস্যার বিষয়ে বিজ্ঞান কী বলে? কারা ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এর সমাধানই বা কী?
‘মাস্কের কারণে শুষ্ক চোখ’
শব্দটি একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞ তার অফিসের সহকর্মীদের মাস্ক পরা এবং এতে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ভিত্তি করে জুন মাসের দিকে প্রথম বর্ণনা করেছিলেন। এরপর এ নিয়ে অনেক প্রতিবেদন ও পর্যালোচনা সামনে এসেছে।
শুষ্ক চোখের এ সমস্যার কারণে বিশ্বব্যাপী দশ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের মাঝে আরো খারাপ লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে পড়তে গেলে কিংবা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করলে এই অস্বস্তি এবং চোখের নানা সমস্যায় পড়ছে মাস্ক ব্যবহারকারীরা। এতে চোখ কালশিটে হয়ে যাচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে, চোখ থেকে পানি পড়ছে এবং চোখ লাল দেখাচ্ছে।
চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার এ রোগের জন্য নানা কারণ রয়েছে, যার মধ্যে চোখের এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা, বয়স, লিঙ্গও জড়িত। ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার, রুমের ভেতর কম আলো এবং বায়ুদূষণের ফলেও এ রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।
আমাদের মুখ ও নাক থেকে যে বাতাস বের হয় তা মাস্কের কারণে সহজে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে না। সেই বাতাস ওপরের দিকে উঠে যায়। এ কারণে চোখের পৃষ্ঠের ওপর সে বাতাসের স্রোত প্রবাহিত হয়। ফলে চোখ আস্তে আস্তে শুষ্ক হয়ে ওঠে, যারা চশমা ব্যবহার করে তাদের চশমায় বাষ্প জমে যায়।
যাদের আগে থেকেই চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা আছে তাদের পাশাপাশি সাধারণ মাস্ক পরিহিত মানুষজনও চোখে অস্বস্তি অনুভব করতে পারে। তবে যারা বয়স্ক এবং যাদের চোখে জলের পরিমাণ কমে গেছে তাদের এক্ষেত্রে সমস্যা বেশি।
একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এবং চশমা নিয়মিতভাবে পরিষ্কার রাখে তারা কন্টাক্ট লেন্স পরলেও করোনার ঝুঁকি নেই। তবে কন্টাক্ট লেন্স ও মাস্কের কারণে টিয়ার ফিল্মে সমস্যা হতে পারে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে দীর্ঘক্ষণ মাস্ক পরে থাকলে এবং ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করলে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার এ সমস্যা দেখা দেবে। এটার আরো একটি খারাপ দিক আছে। চোখ শুষ্ক হয়ে উঠলে এবং মুখমণ্ডলে পানি জমলে তা থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে অনেকেই চোখ ও মুখ মুছে ফেলে। এতে চোখ, নাক ও মুখ দিয়ে করোনাভাইরাস ভেতরে ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
কিছু সাধারণ নিয়মকানুন মেনে চললে মাস্ক থেকে ওপরের দিকে নিশ্বাস প্রবাহিত হওয়া কমানো যায়। মাস্কের কারণে চোখে অস্বস্তি লাগলে প্রথমেই কোনো চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত এটা নিশ্চিত করতে হবে যে মাস্কটি সঠিকভাবে পরা হয়েছে কিনা। বিশেষ করে চোখে চশমা বা সানগ্লাস পরার সময়। এমন মাস্ক ব্যবহার করতে হবে যেটার মাধ্যমে নিশ্বাসের বাতাস ওপরের দিকে না উঠে নিচের দিক দিয়ে বের হবে। এতে চোখ শুষ্ক কম হবে এবং অস্বস্তিও কম লাগবে। আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে যত কম থাকা যায় ততই ভালো। তাছাড়া ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহারও কম করতে হবে।
স্ক্রলডটইন





