করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে বিশ্বনেতারা ৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত সোমবার ইউরোপীয় কমিশন আয়োজিত একটি অনলাইন সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও ব্যক্তি এ অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে শুক্রবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের উদ্যোগে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও গবেষণায় তহবিল সংগ্রহে বড় ধরনের প্রচার শুরু হয়।
কমিশনের সভাপতি লিয়েন বলেন, এ অর্থ অভূতপূর্ব বৈশ্বিক সহযোগিতা শুরু করতে সহায়তা করবে। এ সহযোগিতা বৈশ্বিক ঐক্য ও মানবতার প্রকৃত মূল্য দেখিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আমাদের আরো বেশি সহযোগিতার দরকার হতে পারে।
জাতিসংঘ, দাতব্য সংস্থা, ব্যক্তি, গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি দেশ অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দাতাদের মধ্যে পপ সংগীতশিল্পী ম্যাডোনা ১১ লাখ ডলার অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া ইউরোপীয় কমিশন ও নরওয়ে মিলে ১০০ কোটি ডলার, ফ্রান্স, সৌদি আরব ও জার্মানি ৫০ কোটি ইউরো করে এবং জাপান ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন এ উদ্যোগে অংশ নেয়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে ৪৪০ কোটি ডলার, চিকিৎসা অনুসন্ধানে ২০০ কোটি ডলার এবং পরীক্ষার জন্য ১৬০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছিলেন, সত্যিকারের বিশ্ব প্রচেষ্টায় সবাইকে অর্থায়ন করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ে ৪ মে কে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত করবে, কারণ বিশ্ব আজ একত্র হচ্ছে। সহযোগী অনেক, লক্ষ্য একটাই; ভাইরাসকে পরাজিত করা।
সম্মেলনের সহ-আয়োজক ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেন, আমরা যত ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পারব, তত দ্রুত আমাদের বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে সফল হতে পারবেন।
কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে তিনদিন আইসিইউতে কাটানো জনসন সম্মেলন চলাকালীন তহবিলে ৩৮ দশমিক ৮ কোটি পাউন্ড দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ইউরোপীয় কমিশনের পাশাপাশি সম্মেলনের যৌথ উদ্যোক্তা ছিল যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নরওয়ে ও সৌদি আরব। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে স্বাক্ষর করাদের মধ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলও রয়েছেন।
খোলা চিঠিতে বিশ্বনেতারা বলেছেন, সংগ্রহ করা এ তহবিল বিজ্ঞানী ও নিয়ন্ত্রক, শিল্প ও সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থা, ফাউন্ডেশন ও চিকিৎসকদের মধ্যে একটি অভূতপূর্ব বৈশ্বিক সহযোগিতা শুরু করবে। পুরো বিশ্ব একত্র হয়ে আমরা যদি একটি ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারি, তাহলে সেটা একুশ শতকের জনসাধারণের জন্য অনন্য মঙ্গলজনক কাজ হবে।
একই সময়ে স্বাক্ষরকারীরা মহামারীটি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখে থাকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সমর্থন জানিয়েছেন। জাতিসংঘ বলছে, সাধারণ জীবনযাপনে ফিরে আসার একমাত্র উপায় হলো ভ্যাকসিন।
ভাইরাসটির ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে এমন কয়েক ডজন গবেষণা প্রকল্প বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলছে। এমনকি আরো আর্থিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও কোনটি কার্যকর হতে পারে এবং কতটা ভালো তা জানতে আরো সময় লাগবে। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে।
বিবিসি





