মেগা সিটিগুলোতে কভিড-১৯-এর সংক্রমণের দ্বিতীয় ঝড় থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যাপারে যে আশার সঞ্চার হয়েছে তা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
লন্ডন, দিল্লি, মস্কো ও নিউইয়র্কে রক্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে। এসব অঞ্চল মহামারী দ্বারা বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইঙ্গিত আছে কিছু অঞ্চল হয়তো ইমিউনিটি পাওয়ার পথে রয়েছে।
কিন্তু ভাইরোলজিস্টরা সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, এ গবেষণা প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন, তবে এগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করা উচিত এবং একে সামাজিক দূরত্বের বিধি কিংবা সুরক্ষা নীতি শিথিল করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। এক কথায়, আলোর দেখা মিললেও তা বিপর্যয় শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।
ভারতের মেগা সিটি দিল্লি ও মুম্বাইয়ের সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে, অ্যান্টিবডি গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ২৭ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত দিল্লি সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অধিবাসীদের ২০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে। যেখানে ২৩ শতাংশের বেশিতে কভিড-১৯-এর অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে।
মুম্বাইয়ে ৯ হাজার ৫০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪ শতাংশের অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নিউইয়র্কের কুইন্সে এ মাসের শুরুতে একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করে ৬৮ শতাংশ ইতিবাচক ফল পাওয়া যায় এবং জ্যাকসন হাইটের আরেকটি ক্লিনিকে পজিটিভ ফল আসে ৫৬ শতাংশ।
শহরব্যাপী বিস্তৃত পরীক্ষার ফল একইভাবে সামনে আসেনি। নিউইয়র্ক সিটির মেট্রোপলিটন অঞ্চলে ২ হাজার ৪০০ জনের মাঝে সিডিসি দ্বারা পরিচালিত পরীক্ষায় অ্যান্টিবডির হার দেখা গেছে ৬.৯ শতাংশ।
ভাইরোলজিস্ট জুলিয়ান টাঙ বলেন, নিউইয়র্ক অঞ্চল বিশেষত ভাইরাস দ্বারা ব্যাপকভাবে ধাক্কা খেয়েছে। অনেক বেশি কৃষ্ণাঙ্গ এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের দ্বারা পূর্ণ অঞ্চল এ রোগের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে প্রমাণিত, তারা উচ্চ স্তরের অ্যান্টিবডি দেখাতে বাধ্য।
তার মতে, কিছু অঞ্চল উচ্চ পর্যায়ের ইমিউনিটি দেখাতে পারে। আপনার উচ্চ স্তরের হার্ড ইমিউনিটি থাকতে পারে কিন্তু এটা পুরোপুরিভাবে সুরক্ষিত হবে না। একটি পোস্ট কোডে এটি ১০ শতাংশ হলে অন্যটিতে হবে ৫ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যে প্রতি অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার রক্তদাতার কাছ থেকে নমুনা নিয়ে করা অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় লন্ডনে ১৭.৫ শতাংশ পজিটিভ ফল পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সেটি ছিল ৫ শতাংশের নিচে।
ড. টাং আরো বলেন, স্কটল্যান্ড কিংবা ওয়েলসের গ্রাম অঞ্চল যদি লন্ডনের সমপর্যায়ের অ্যান্টিবডি স্তর দেখায় তবে সেটি অনেক বেশি আকর্ষণীয় ব্যাপার হবে। তিনি বলেন, আমরা জানি না পার্থক্য কোথায়।
মস্কোতে ৯৮ হাজার লোকের নমুনা পরীক্ষায় ২১.৭ শতাংশের মাঝে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে এবং মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন ফলের ব্যাপারে বিশেষভাবে আশাবাদী ছিলেন।
তিনি বলেন, মস্কোর জনগণের মাঝে সম্মিলিতভাবে ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে, যা বিধিনিষেধ তুলে দেয়ার ব্যাপারে আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। নিউইয়র্ক ও দিল্লির চেয়ে মস্কোর নমুনা অনেক বড় ছিল কিন্তু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সমীক্ষাও কোনো পিআর রিভিউ করা জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।
এশিয়া, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকাজুড়ে করা ল্যানসেটের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ইতিবাচক অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় বেশ বৈচিত্র্য দেখা গেছে। যা বিস্তৃত ছিল ০.৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। আবার স্পেনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, কেবল ৫ শতাংশ জনগণের অ্যান্টিবডি রয়েছে।
সুইডেনে যারা ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো লকডাউন কৌশলের পথে হাঁটেনি সেখানে নমুনা পরীক্ষায় অ্যান্টিবডি পাওয়া যায় ৬.৩ শতাংশে। যা স্টকহোমে বেড়ে ১০ শতাংশ হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন জনগণের ৬০ শতাংশের মাঝে যদি অ্যান্টিবডি থাকে তবে তা একটি হার্ড ইমিউনিটি প্রদান করতে পারে। কিন্তু এই সুরক্ষা টি-সেল থেকেও আসতে পারে, যা শরীর অর্জন করে একই ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে।
ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ ড. জেরেমি রোজম্যান বলেন, বড় একটি ব্যাপার হচ্ছে কেউ জানে না করোনাভাইরাসের ইমিউনিটি কেমন। তিনি বলেন, যদি নিউইয়র্কের সংখ্যা সত্যিও হয় এবং এমনকি তা যদি গোটা শহরের প্রতিনিধিত্ব করে তার পরও আমরা জানি না সবার যথেষ্ট পরিমাণ অ্যান্টিবডি আছে কিনা, যা পুনঃসংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। যদি এগুলো যথেষ্ট পরিমাণে সক্রিয় হয়েও থাকে, তবে কতদিন পর্যন্ত থাকবে তা জানা নেই। কিছু ডাটা বলছে অ্যান্টিবডি খুব দ্রুত ক্ষয়ে যায়।
দ্য টেলিগ্রাফ





