করোনাভাইরাসের পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন ৯০ শতাংশের বেশি স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে দরকারি অ্যান্টিবডি তৈরি করেছিল বলে জানিয়েছে একটি চীনা সংস্থা। সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড তাদের ট্রায়ালে ৭০০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে এ ভ্যাকসিনের পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষাটিতে প্রথম সুরক্ষা ধাপ এবং পরবর্তী দ্বিতীয় ধাপ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
একটি বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, দ্বিতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফলাফলগুলো দেখায় যে ভ্যাকসিন দেয়ার ১৪ দিন পর সেটা অ্যান্টিবডিগুলোকে নিরপেক্ষ করতে কাজ করে। এই নিরপেক্ষ অ্যান্টিবডিগুলো কভিড-১৯-এর সংক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে কিনা, তা এখন পর্যন্ত কেউ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। তবে ভ্যাকসিন নির্মাতারা আশা করছেন, তারা এটা করে দেখাতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় ৬০০ জনের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে এ অ্যান্টিবডিগুলো তৈরি হয়েছিল।
তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার জন্য সিনোভ্যাক ব্রাজিলের ইনস্টিটিউটো বুটান্টেনের সঙ্গে প্রস্তুতির জন্য কাজ করছে। কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ কাজ করছে কিনা সেটার চূড়ান্ত পর্যায় হলো তৃতীয় ধাপ।
সিনোভ্যাক করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির জন্য একটি পুরনো পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যেখানে সম্পূর্ণ একটি ভাইরাস ব্যবহার করে শরীরের প্রতিরোধক্ষমতাকে উন্নত করা হয়। তবে ভাইরাসটি নিষ্ক্রিয় হওয়ায় এটা রোগ সৃষ্টি করতে পারে না। এ পদ্ধতি ধীরগতির হয়, কারণ প্রচুর পরিমাণে ভ্যাকসিন তৈরি করতে কারখানাগুলোতে ভাইরাসের ব্যাচগুলো বড় করতে হয়। এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে আবিষ্কারকৃত ভ্যাকসিনের মধ্যে রয়েছে পোলিও শট, ফ্লু শট ও জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ভ্যাকসিন তৈরিতে ভাইরাসের জিনগত উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে দ্রুতগতিতে ভ্যাকসিন তৈরি করা যায়। তবে এ পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীদের শনাক্ত করতে হবে যে ভাইরাসের কোন অংশটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রণোদিত করতে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।
সিএনএন





