ভারতে সরকারি পরিসংখ্যান মতে, কভিড-১৯-এ মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি যুক্তরাজ্যকে টপকে করোনা মহামারীতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চতুর্থ দেশে পরিণত হয়েছে। 

কিন্তু ভারতে প্রতি ১০ লাখ মানুষে কভিডজনিত মৃত্যু ৩৪ জন, যা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে ভারতে সিএফআর বা কভিড আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ২ শতাংশ। এমনকি দেশটির সবচেয়ে ভয়ানকভাবে আক্রান্ত রাজ্য মহারাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে সময় লেগেছে ৪০ দিন। ভারতের পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট কে শ্রীনাথ রেড্ডির মতে, ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মৃতের সংখ্যা বেশ কম।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক কৌশিক বসু বলেন, ভৌগোলিক তুলনার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সেটা এড়িয়ে দৃষ্টি দিলে দেয়া যায় ভারতে অবস্থা বেশ খারাপ। চীনে কভিডে মৃতের সংখ্যা প্রতি ১০ লাখে ৩ জন, অন্যদিকে ভারতে তা ৩৪ জন। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের চেয়ে শুধু আফগানিস্তানের অবস্থা খারপ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্ত পরিসংখ্যান ভারতে পুরো পরিস্থিতি প্রকাশ করছে না। অনেক রাজ্য মৃতের সংখ্যা কম দেখিয়েছে। অনেক শহরে মৃত মানুষের শেষকৃত্যের সংখ্যা আর মৃতের সংখ্যায় ফারাক আছে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ভারতে কভিডে মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হচ্ছে। দেশটিতে নিয়মিত গড় মৃত্যু সংখ্যার চেয়ে ‘বেশি’ যা দেখা যাচ্ছে তা কভিডের কারণে। ২৩০ জন ভারতীয় চিকিৎসক, গবেষক গত তিন বছরের মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন যেন এ বছরের অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা হিসাব করা যায়।

সিএনএন