এই সেমিস্টারে ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির (ওএইচএসইউ)  বায়োমেডিকেল সায়েন্সের নতুন ক্রস-ডিসিপ্লিনারি পিএইচডি প্রোগ্রামে ছাত্র ভর্তি করানো হয়। কিন্তু কভিড-১৯ মহামারীর কারণে সেপ্টেম্বরে এ প্রোগ্রামের ১৫ জন সদস্য সরাসরি উপস্থিত হতে পারবে কিনা তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

প্রোগ্রামটির ডিরেক্টর ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট গিওরগিয়ানা পার্ডি বলেন, আমরা সবাই অপেক্ষায় আছি আগামী এক-দুই মাস কীভাবে যায় তা দেখার জন্য। তাহলে কোনো একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমরা একটা ধারণা পাব যে আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে। ফল সেমিস্টারে ছাত্রদের বেশির ভাগ সময় ক্লাসেই কাটানোর কথা রয়েছে। সতীর্থদের মাঝে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পার্ডি এ বিষয়ে আরো বলেন, আমি জানি না অনলাইনে ক্লাস করার সময় আপনি একই জিনিস পাবেন কিনা। এটা আসলেই খুব ভালো হতো যদি আমরা ছাত্রদের সঙ্গে সরাসরি বসতে পারি।

যুক্তরাষ্ট্রের (বিশ্বের অন্যান্য জায়গায়ও) বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রী ও স্টাফদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে মার্চ থেকে অনলাইনে ক্লাস নেয়া শুরু করে। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো ফল সেমিস্টারের জন্য প্রস্তুত ছিল। এখন এটা স্পষ্ট নয় যে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান শিক্ষা আসলে কেমন দেখাবে। দ্য ক্রনিক্যাল অব হায়ার এডুকেশনের মতে, দুই-তৃতীয়াংশ কলেজ ও ইউনিভার্সিটি পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্যবিধি যেমন সামাজিক দূরত্ব মানা, কন্টাক্ট ট্রেসিং করা এবং টেস্ট করানোর মাধ্যমে সরাসরি ক্লাসের ব্যবস্থা করা। উদাহরণস্বরূপ দ্য ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া পরিকল্পনা করছে গোটা ক্যাম্পাস কমিউনিটিকে প্রতি মাসে টেস্ট করানো। যেখানে আনুমানিক ৬৫ হাজার মানুষের উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারা শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে।

যেহেতু মহামারীর ভবিষ্যৎ অজানা তাই এই প্রতিরোধী ব্যবস্থা ভাইরাসের সংক্রমণ কমানোর জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাই অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে চাইছে। যেখানে অনলাইন প্রোগ্রাম তৈরি করা হচ্ছে এবং কোর্সগুলো নতুনভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে। সে সঙ্গে ছাত্রছাত্রীর স্বাস্থ্যের ভারসাম্য তৈরি করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে তারা।

ছাত্রছাত্রীদের মাঝে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা

উইসকনসিনের একটি ছোট লিবারেল আর্ট কলেজ হচ্ছে বেলোইট কলেজ। যেখানে ছাত্র-শিক্ষক উভয়ই পরিকল্পনা করছে মডিউলভিত্তিক সেমিস্টার চালু করার। ১৫ সপ্তাহে চারটি কোর্সের বোঝা নেয়ার পরিবর্তে ছাত্রছাত্রীরা সেমিস্টার বিরতির সময় দুটি কোর্স নেবে এবং বিরতির পর দুটি কোর্স নেবে। মার্চের শেষ দিকেই কলেজের পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে পাঠানো চিঠি থেকে এমনটা জানা গেছে।

বেলোইটের বায়োকেমিস্ট টেড গ্রেইস বলেন, মডিউলার সিস্টেম আমাকে নিয়মিত ব্লক ফরম্যাটে আমার কোর্সগুলোকে সম্মিলিতভাবে ক্লাস ও ল্যাবের কাজসহ করানোর ব্যাপারে অনুমতি প্রদান করে। কিংবা একটি হাইব্রিড মডেল গ্রহণ করে ল্যাবে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে এবং অনলাইনে ক্লাস করিয়ে সামাজিক বিধিনিষেধ মানার মাধ্যমে একই সময়ে ল্যাবে অনেক মানুষের উপস্থিতি কমিয়ে আনা যায়।

গ্রেইস অনেক শিক্ষকের একজন যারা ভবিষ্যতে দৃষ্টি রেখে কিছু কোর্স অনলাইনে করানোর সম্ভাবনার কথা ভাবছেন। গত কয়েক মাসে শিক্ষকরা এর জন্য প্রস্তুত হতে পেরেছেন। এই স্প্রিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন ক্যাম্পাস বন্ধ করতে শুরু করে গবেষকরা ব্ল্যাকবোর্ড এবং গুগল ক্লাসরুমের মতো প্লাটফর্মে ক্লাস করানো শুরু করেন। এছাড়া তাদের মিটিংগুলো অনুষ্ঠিত হয় জুম কিংবা ওয়েবেক্সের মাধ্যমে।

এদিকে ইয়েল ইউনিভার্সিটির বায়োলজিক্যাল ও বায়োমেডিকেল সায়েন্স (বিবিএস) পরিকল্পনা করছে স্নাতক পর্যায়ে সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে ক্লাস শুরু করার। পাশাপাশি তারা পরিকল্পনা করছে সব ক্লাস যেন দূরে থেকেও উপলব্ধ হয়। এমনকি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও যারা ক্যাম্পাসে আসতে পারবে না তারাও ক্লাসগুলো করার সুযোগ পাবে।

মহামারীকালে স্টিমে শিক্ষা

এই স্প্রিংয়ে ভার্চুয়াল শিক্ষার ক্ষেত্রে ‘স্টিম’-এ রূপান্তরের বিষয়টির সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রশিক্ষক ও দলনেতাদের কিছু বাস্তবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। তবে শিক্ষকদের চোখ সামনের বছরে। শিক্ষকরা চেষ্টা করছেন ভার্চুয়াল জায়গাগুলো থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের।

যেমন এই এপ্রিলে রুটগার্স লুটজ একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছিল জুমে। যেখানে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ফেলোশিপ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অনেক শিক্ষক এবং স্টাফরা কেবল মহামারীর সময়ে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যারিয়ার নিয়েই নয়, বরং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বিগ্ন। অনেক প্রতিষ্ঠান টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে মহামারীর সময়ে বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিতে হবে, সে সম্পর্কে তাদের তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।

দ্য সায়েন্টিস্ট