নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই সংক্রমণের বিস্তার রোধে বিভিন্ন দেশে গণপরিবহনসহ রাইডশেয়ারগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তবে সংক্রমণের প্রথম ঝড় কমে আসার পর থেকে বিভিন্ন দেশ লকডাউন শিথিল করে পরিবহন ব্যবস্থাগুলো চালু করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বাড়লেও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে পরিবহন ব্যবস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। ফলে ভ্রমণের সঙ্গে গণপরিবহন ও রাইডশেয়ার সমানতালে চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো মহামারীর মধ্যে কোনটা বেশি নিরাপদ—গণপরিবহন না রাইডশেয়ার?
কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে পরিবহনের মাধ্যমে কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্যারিস, অস্ট্রিয়া ও টোকিওতে এমন কয়েকটি ছোট গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ভাইরাসটি এক যাত্রী থেকে আরেক যাত্রীতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিশ্বজুড়ে গণপরিবহনের অনেক শ্রমিক ও চালকরা করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। গত ২০ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পাইলট সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিউইয়র্ক সিটির প্রায় তিন হাজার পরিবহন কর্মী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে কতজন চালক পজিটিভ পরীক্ষা করেছেন সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি রাইড পরিষেবা দেয়া উবার ও লিফট।
আপনি হয়তো মেট্রো বা বাসে চলাচল করার পরিকল্পনা করছেন কিংবা আশপাশে যাত্রা করার জন্য রাইড পরিষেবার গাড়ি ডাকছেন। তবে এগুলোতে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। এক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন, চলাচলে নিজে গাড়ি চালানো কিংবা চালকের সঙ্গে একাকী ভ্রমণ সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ। অর্থাৎ গণপরিবহনের থেকে রাইডশেয়ারকে কম ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এখানে অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়ও বাদ দেয়া যাবে না। যেমন যথেষ্ট বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা আছে কিনা, ভ্রমণের দূরত্ব কত, আপনার চারপাশের লোকেরা মাস্ক পরছে কিনা।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জোরালোভাবে সুপারিশ করেছে, বিমান, ট্রেন, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনে যাত্রী ও কর্মীরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে মাস্ক ব্যবহার করুন।
সাউথ ক্যারোলাইনার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগের সহকারী অধ্যাপক কৃত্তিকা কুপল্লি বলেন, যদিও মানুষের কাছে এটা পুরনো তথ্য, তবে আপনার সর্বত্র মাস্ক পরা উচিত।
গত মে মাস থেকে রাইডশেয়ার অ্যাপ্লিকেশন উবার ও লিফট চালক ও ব্যবহারকারীদের জন্য মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করেছিল। অন্যদিকে লকডাউন শিথিল করে গণপরিবহন চালুর পর থেকেই গণপরিবহনের চালক, কর্মী ও যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পাশাপাশি যানবাহনের পৃষ্ঠতল পরিষ্কার করাও সংক্রমণ ঠেকাতে কিছুটা কার্যকর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশগত মাইক্রোবায়োলজিস্ট এরিকা মেরি বলেন, আপনি ট্রেন, বাস বা রাইডশেয়ার যেটাতেই যান না কেন আপনার হাত মুখমণ্ডলে স্পর্শ না করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মুখমণ্ডল স্পর্শ করার ফলে ভাইরাসটি আপনার চোখ, নাখ ও মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। আবার যেসব গাড়িতে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ভালো, সেই গাড়িতে ভ্রমণ করা কম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্ট





