কভিড-১৯ ভ্যাকসিনগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে। এমন সময়েও বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য আধিকারিকরা ভ্যাকসিন সম্পর্কে ভুল তথ্যপ্রবাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। সম্প্রতি ইউটিউব কভিড-১৯-এর ভুল তথ্যসংবলিত ভিডিওগুলো সরিয়ে ও অ্যান্টিভ্যাকসিন ভিডিওগুলোর সুপারিশ সীমাবদ্ধ করার পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাগুলোকে প্রসারিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ব্রাজিলে নতুন একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, ইউটিউবের মডারেশন নীতিগুলো পর্তুগিজ ভাষার অনেক অ্যান্টিভ্যাকসিন ভিডিও মিস করে যায়।
বহু বছর ধরেই কিছু মানুষ বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিনের বিরোধিতা করে আসছে। তবে দুই দশক ধরে এটা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিশ্ব স্বাস্থ্যের জন্য ১০ হুমকির মধ্যে একটি হিসেবে ভ্যাকসিন-বিরোধিতাকে তালিকাভুক্ত করেছিল। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে ২০টি ভ্যাকসিন বিনা মূল্যে বিতরণ করা ব্রাজিলেও অনেকে সতর্ক থাকে। ২০১৯ সালের একটি জরিপে ব্রাজিলের দুই হাজার নাগরিকের মধ্যে ১৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছিল, তারা অন্তত একটি ভ্যাকসিন মিস করেছে কিংবা তারা তাদের শিশুকে টিকা দেয়নি। কারণ হিসেবে অর্ধেকের বেশি মানুষ ভুল উত্তর দিয়েছিল, যেমন ভ্যাকসিনগুলো গ্রহণ করলে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
ভ্যাকসিন সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া রোধে ভূমিকা রাখতে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ইউটিউব ভ্যাকসিনবিরোধী ক্ষতিকারক ভিডিওগুলো ঠেকাতে কাজ করতে শুরু করে। একটি ই-মেইল বার্তায় ইউটিউবের একজন মুখপাত্র লিখেছেন, এ ধরনের ভিডিও দেখার সময় ৭০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। ভিডিওগুলো দেখার আগে বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে, বাজফিডের এমন প্রতিবেদনের পর সংস্থাটি ঘোষণা দেয়, অ্যান্টিভ্যাকসিন কনটেন্টসহ ক্ষতিকর ভিডিওগুলো ডিমনিটাইজ করা হবে।
একটি নতুন সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এটা যথেষ্ট সফল হয়নি, অন্তত পর্তুগিজ ভাষার ক্ষেত্রে। স্টেস ইউনিভার্সিটি অব ক্যাম্পিনাস (ইউএনআইসিএএমপি) ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পর্তুগিজ ভাষার ভ্যাকসিন-সম্পর্কিত কনটেন্টগুলো অনুসন্ধান করেছিলেন। ইউএনআইসিএএমপির ভুল তথ্যবিষয়ক গবেষক দায়ানি মাশাদো জানান, তাদের গবেষণা দলটি দর্শকদের প্রথম ভিডিওটি শেষ হওয়ার পর ইউটিউবের অ্যালগরিদম কোন ভিডিও সুপারিশ করছে, তা জানতে চেয়েছিল।
ফেব্রুয়ারিতে গবেষকরা ওপেন সোর্স টুল ব্যবহার করেন, যা ইউটিউবের ‘আপ নেক্সট ফিচার’র অনুমান করে এবং সম্পর্কিত ভিডিওগুলোর নেটওয়ার্ক তৈরি করে তিনবার পরীক্ষা করতে ‘ভ্যাকসিন ও অটিজম’
অনুসন্ধান করেন। গবেষকরা নির্বাচিত প্রতিটি ভিডিও দেখেছিলেন এবং সেগুলোতে ভ্যাকসিন-সম্পর্কিত ভুল তথ্যের পরীক্ষা করেন। তারা ২০টি চ্যানেলের ৫২টি ভিডিওর একটি নেটওয়ার্ক উন্মোচিত করেছেন, যেগুলো পর্তুগিজ ভাষায় ভ্যকসিন সম্পর্কে ভুল তথ্যসংবলিত ছিল। ইউটিউবের ডিমনিটাইজেশন নীতি সত্ত্বেও এক-চতুর্থাংশ ভিডিও দেখার আগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছিল। কিছু ভিডিওতে ভ্যাকসিনের ব্যবহারকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য ষড়যন্ত্রতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
সায়েন্সম্যাগ





