কভিড-১৯ আক্রান্ত কয়েকজন রোগীর মধ্যে মেরুদণ্ডের সমস্যা চিহ্নিত করেছেন ইতালির গবেষকরা। গত বুধবার জনপ্রিয় বিজ্ঞান জার্নাল নেচারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে। মিলানভিত্তিক সাতজন গবেষক কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর মেরুদণ্ডের ত্রুটিপূর্ণ ক্রিয়ায় (স্পাইনাল কর্ড ডিজফাংশন-এসসিডি) ভোগা তিনজন রোগীকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

যদিও এ প্রভাবটি বৃহৎ নমুনায় লক্ষ্য করা যায়নি। তবে লেখকরা বলেছেন, প্রতিবেদনটির লক্ষ্য ছিল, কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর এসসিডিতে ভোগা ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের প্রাথমিক অভিজ্ঞতাটি ভাগাভাগি করা। ওই তিনজন গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত উত্তর ইতালির একটি রেফারেল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

গবেষণাটির লেখকরা দাবি করেছেন, আমাদের জানা মতে কভিড-১৯ রোগীদের মধ্যে এসসিডি চিহ্নিত হওয়া প্রথম প্রতিবেদন এটা। জীবনযাত্রার মান ও জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর এসসিডির প্রভাব বিবেচনা করে আমরা কভিড-১৯ আক্রান্তদের এসসিডি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ ও ভাগাভাগি করার পরামর্শ দিই।

মেরুদণ্ডের সমস্যাগুলো তৈরি হওয়ার আগে ওই তিন ব্যক্তি কভিডের কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। তাদের ভেন্টিলেশনে নেয়ার প্রয়োজন হয়েছিল, তাদের কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি ও লিম্ফোপেনিয়া ছিল এবং তাদের টোসিলিজুমাব ওষুধ দেয়া হয়েছিল। টোসিলিজুমাব হলো ইমিউনোসপ্রেসিভ ওষুধ, যা মূলত বাত ও এর গুরুতর রূপের চিকিৎসায় ব্যবহূত হয়।

কভিডের সঙ্গে মেরুদণ্ডের রোগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক না পাওয়া গেলেও গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, তিনজন রোগীকেই টোসিলিজুমাব ও কার্টিকোস্টেরয়েডসহ অন্যান্য ইমিউনোমডুলেটরি থেরাপি (আইএমটি) ওষুধ দেয়া হয়েছিল, যা মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ইমিউনোমডুলেটরি ওষুধগুলো শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। কভিড-১৯-এর চিকিৎসায় এগুলো প্রথম থেকেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেন, আমরা সরাসরি ভাইরাল সংক্রমণটি পর্যবেক্ষণ করিনি, তবে এখানে দুটি পৃথক কারণ ছিল। এসসিডি রিপোর্ট করা তিনজন কভিড রোগীর মধ্যে একজনের মেরুদণ্ডের ইস্কেমিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। এটা এমন একটি বিরল ও মারাত্মক অবস্থা, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুপরিচিত নয়। অন্য দুজন স্পাইনাল এপিডিউরাল অ্যাবসেসে (এসইএ) আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা সম্ভবত কভিড-১৯ চিকিৎসায় টোসিলিজুমাব ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

গবেষকরা বলেছেন, কভিড-১৯-এর জরুরি অবস্থার প্রাথমিক সময়কালে আমরা সাপ্তাহিক হাসপাতাল প্রটোকলগুলো দেখেছি। প্রকৃতপক্ষে, সবার ক্ষেত্রে ওষুধগুলো সাধারণ ছিল না। যদিও মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভোগা তিনজনের ক্ষেত্রেই টোসিলিজুমাব ব্যবহূত হয়েছিল।

প্রাথমিক সাফল্যের পর টোসিলিজুমাব ইতালিতে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এটার সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাবগুলোর মধ্যে বছরের পর বছর ধরে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোড়া হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গবেষকরা বিশ্বাস করেন, কভিড-১৯-এর চিকিৎসার জন্য দেয়া আইএমটি ওষুধের কারণে এ ফোড়াগুলো হয়ে থাকতে পারে। কভিড-১৯ ও আইএমটির সংমিশ্রণ মেরুদণ্ডের এপিডিউরাল ফোড়ার মতো ফোড়াকে উৎসাহিত করতে পারে।

দ্য প্রিন্ট