করোনাভাইরাস মহামারী থেকে দুর্বল ইমিউনিটির জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করার জন্য নানা ধরনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভাইরাসটি সম্প্রতি পেরুর প্রত্যন্ত অ্যামাজনে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে নাহুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে কমপক্ষে ছয়জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার পর বেশির ভাগ নাহুয়া আদিবাসী বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে আসছে।
পেরুর দক্ষিণ অ্যামাজনে ৪ হাজার ৫৫৬ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত কুগাপাকোরি-নাহুয়া-ন্যান্তি আঞ্চলিক রিজার্ভে এ গোষ্ঠীর এক হাজারেরও কম সদস্য বাস করে। এ ঘটনায় অ্যামাজনের আদিবাসী অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল, তাদের জনসংখ্যা ধ্বংস করে দেয়া পূর্ববর্তী মহামারীগুলোর মতো করোনাভাইরাস একটি বিপর্যয়কর পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
পেরুর সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩৯১ জন নাহুয়া আদিবাসীর বন্দোবস্ত থাকা সান্তা রোজা ডি সেরজালি কেন্দ্র থেকে কভিড-১৯-এ আক্রান্তের ঘটনাগুলো ঘটেছে। তিন দশক ধরে তারা বাইরের বিশ্বের সঙ্গে ‘প্রাথমিক যোগাযোগ’
করে আসছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা অঞ্চলটি পরিদর্শন করেছেন এবং মাস্ক ও অন্যান্য সরঞ্জামের পাশাপাশি সেখানে সাত টন খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, নাহুয়ার জনগণের মধ্যে সংক্রমণটি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। কারণ তাদের বেশির ভাগের মধ্যে সাধারণ রোগের প্রতিরোধক্ষমতাও নেই।
১৯৮০ দশকে নাহুয়ার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যখন প্রথম বাইরের পৃথিবীর যোগাযোগ হয়, তখন সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা তাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল।
স্বাস্থ্যকর্মীরা পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের আটলিয়া প্রদেশের রাজধানী সিপাহুয়ায় আটটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত ১৫০ জনেরও বেশি লোককে শনাক্ত করেছেন। সেখান থেকেই নাহুয়ার সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী সেখানে এখনো কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
গার্ডিয়ান





