মার্চে ভারতজুড়ে বিস্তার লাভ করতে শুরু করে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে সাম্প্রদায়িক সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। ক্ষমতাসীন বিজেপির অনেক নেতা এবং জনপ্রিয় চরিত্ররা ভাইরাসটির সংক্রমণের বিস্তারের পেছনে মুসলিম সম্প্রদায়কে দায়ী করে বক্তব্য দেন। দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের জমায়েতে করোনাভাইরাসের বিস্তারে এমন প্রচারণায় তেল ঢালে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘করোনা জিহাদ’ চালানোর অভিযোগ তোলা হয়।
এসব প্রচারণার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের অনেক স্থানে মুসলিমদের বয়কট করাসহ হাসপাতালে তাদের জায়গা না দেয়ারও কথা ওঠে।
পশ্চিমবঙ্গের তেলিনীপাড়ায় সমস্যা শুরু হয় মে মাসের শুরুতে পাঁচজন মুসলিম করোনা পজিটিভ হওয়ার পর থেকে। শনাক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে মুসলিমদের অলিগলিতে অবরোধ তৈরি করে যেন তারা বের হতে না পারে।
স্থানীয় কাউন্সিলর মোহাম্মদ হাশিম গার্ডিয়ানকে বলেন, পাবলিক টয়লেট ও রেশন শপ থেকে মুসলমানদের নিষিদ্ধ করা হয়।
পাশের শহর চন্দননগরে মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়, যেন তেলিনীপাড়ার কোনো মুসলমানকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া না হয়। স্থানীয় দোকানদারদের হুমকি দেয়া হয়, যেন তারা মুসলিমদের কাছে কিছু বিক্রি না করে।
১০ মে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। সে রাতে হিন্দু তরুণদের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে লেবার কলোনিতে বসবাসরত মুসলিমদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের কলোনি ছেড়ে যেতে বলে। এর প্রতিশোধ নিতে মুসলিমরাও হিন্দুদের দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা চালায়। স্থানীয় এমপি বলেন, মুসলিমরা কোয়ারেন্টিন মানতে চান না এবং মুক্তভাবে ঘুরে বেড়িয়ে হিন্দুদের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অবশ্য স্থানীয় প্রশাসন গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, আক্রান্ত পাঁচ মুসলিম শান্তিপূর্ণভাবেই কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।
দ্য গার্ডিয়ান





