করোনাভাইরাস মহামারীটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় এটার চিকিৎসা অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। অথচ আশাব্যঞ্জক কিছু ওষুধের পরীক্ষামূলক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সাইটগুলোর গবেষকরা বলছেন, কর্মীদের ঘাটতি, স্থানের সীমাবদ্ধতা এবং অনিচ্ছুক রোগীরা অ্যান্টিবডিগুলো পরীক্ষা করার জন্য তাদের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছিল।

এর আগে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী রেজেনেরোন বলেছিল, গ্রীষ্মের শেষের দিকে অ্যান্টিবডি ককটেলের জরুরি ডোজ প্রস্তুত থাকতে পারে। আরেক প্রস্তুতকারী এলি লিলির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জুনে বলেছিলেন, তাদের অ্যান্টিবডি চিকিৎসা সেপ্টেম্বরে প্রস্তুত হতে পারে। তবে এ সপ্তাহে একটি সাক্ষাত্কারে তিনি এখন বছরের শেষের দিকে এটার প্রত্যাশা করছেন বলে জানিয়েছেন। সংস্থাটির নির্বাহী ড্যানিয়েল স্কোভ্রনস্কি বলেন, অবশ্যই, আমি আশা করি দ্রুত এগোনোর—এটা নিয়ে কোনো প্রশ্নই আসে না। আমি চাই আমরা এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে রোগীদের নথিভুক্ত করি, তবে এটাতে তার চেয়ে বেশি সময় নেবে।

বিশ্বের বেশির ভাগ ফোকাস এখন করোনাভাইরাসের একটি ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতার দিকে। তবে নতুন ওষুধগুলো প্রমাণিত হলে সেগুলো রোগটিকে কম মারাত্মক করে মহামারীটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করতে পারে। যেহেতু ওষুধগুলো সাধারণত অসুস্থ রোগীদের মধ্যে ছোট আকারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা হয়, সেহেতু ভ্যাকসিনের চেয়ে এটা আরো দ্রুত তৈরি করা যায়।

এলি লিলি ও রেজেনেরোন সর্বাধিক ঘনিষ্ঠভাবে দুটি চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ল্যাবে তৈরি অ্যান্টিবডিগুলো এরই মধ্যে অসুস্থ রোগীদের ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করতে পারে বা যারা আক্রান্ত হয়নি তাদের মধ্যে সংক্রমণ রোধ করতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন প্রবলভাবে ভ্যাকসিনগুলোতে বিনিয়োগের পক্ষে রয়েছে। তার পরও রেজেনেরোন অ্যান্টিবডি ট্রিটমেন্টের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি চুক্তি করতে পেরেছে।

উভয় সংস্থা রেকর্ড সময়ে তাদের অ্যান্টিবডিগুলো তৈরির জন্য জোর প্রচেষ্টা শুরু করেছিল এবং সারা দেশের কয়েক ডজন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বড় অধ্যয়ন শুরু করে। তারা বিভিন্ন গ্রুপের রোগীদের পরীক্ষা করছে। যেমন যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তবে এখনো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো অসুস্থ নয় এবং যারা এরই মধ্যে সংক্রমিত ব্যক্তির মাধ্যমে ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছে। সবগুলো ট্রায়ালে পরীক্ষামূলক ওষুধগুলো একটি প্লাসবো ওষুধের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

অ্যারিজোনা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের গবেষণা পরিচালক ডা. অনিতা কোহলি বলেন, প্রথমদিকে স্বেচ্ছাসেবক হতে আগ্রহীদের অনেক ভিড় হয়েছিল। তবে ল্যাবগুলো নমুনা দ্বারা সজ্জিত এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপের কারণে ফল পেতে বিলম্বিত হচ্ছে। মানুষগুলো পরীক্ষা করছে, কিন্তু ফলাফল পাচ্ছে না; তাহলে আমরা কীভাবে ট্রায়ালে তাদের যুক্ত করব?

তবে উভয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থায় ট্রায়ালগুলো দ্রুত এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি ফলাফল দ্রুত করার জন্য রেজেনেরোন কোহলিকে একটি দ্রুত পরীক্ষার মেশিন পাঠিয়েছে। অন্যদিকে এলি লিলি সংস্থাও একইভাবে পরীক্ষার ফলগুলো দ্রুত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। রেজেনেরোনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংস্থাটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সাইটগুলোতে কয়েক ডজন টেস্টিং মেশিন পাঠিয়েছে এবং আগামীতে আরো কিছু পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

এলি লিলি জানিয়েছে, তাদের ট্রায়াল সাইটে টেস্টিং মেশিন সরবরাহের পাশাপাশি কয়েকটি অঞ্চলে পরীক্ষার গতি বাড়াতে তারা রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।

সিএনএন