নভেল করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষায় অন্যতম কার্যকরী উপায় হলো মাস্ক ব্যবহার। সুরক্ষা উপকরণ হিসেবে শুরু হলেও মাস্ক এখন ফ্যাশন দুনিয়ার সর্বশেষতম ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড সুতি কাপড়সহ বিভিন্ন উপকরণের মাস্ক তৈরি শুরু করেছে। তাদের এ কার্যক্রম একদিকে মাস্কের বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং অন্যদিকে মহামারীর মধ্যে ফ্যাশন বাজারকে টিকে থাকতে সহায়তা করছে। অবশ্যই এ মাস্কগুলোর বেশ কয়েকটি সুবিধা রয়েছে। তবে এগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো পরিষ্কার করা এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে।
এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখের ছবিসংবলিত মাস্ক দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মোদি মাস্কগুলো বেস্টসেলারে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির একজন মাস্ক ব্যবসায়ী।
মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে বিশ্বব্যাপী মাস্কের চাহিদা আকাশছোঁয়া। ফোর্বসের নিবন্ধ অনুযায়ী মাস্কের বিক্রি এপ্রিলের শুরু থেকে মারাত্মকভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ‘কাপড়ের মাস্ক কভিড-১৯ থেকে রক্ষায় কার্যকরী নয়। তবে এটা ব্যবহার করা ভাইরাসটি অন্যদের মধ্যে ছড়ানোর হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।’
বর্তমানে বেশির ভাগ মানুষ যেভাবে ডিসপোজেবল সার্জিক্যাল মাস্কগুলো ব্যবহার শুরু করেছে, তাতে কাপড়ের মাস্ক ব্যবহারের সঙ্গে এর খুব বেশি ফারাক নাও হতে পারে। কারণ সার্জিক্যাল মাস্কগুলো স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহার উপযোগী হলেও মানুষ এগুলো দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার শুরু করেছে।
সার্জিক্যাল মাস্কগুলো সাধারণত তিনটি স্তর দিয়ে গঠিত হয়। মাঝের মেল্টব্লোন পলিমারের স্তরটি ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, যা জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়াকে মাস্কের ভেতরে বা বাইরে যেতে বাধা দেয়।
অন্যদিকে কাপড়ের মাস্কগুলোতে এ ধরনের কোনো স্তর থাকে না। তবে কী উপাদান দিয়ে মাস্কগুলো তৈরি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন তুলা অন্য উপকরণের থেকে ভালো কাজ করতে পারে। এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সেটা সহজে শ্বাস-প্রশ্বাস চালানোর সুবিধা।
যদি এখন আইন অনুযায়ী জনসমক্ষে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হয়, তাহলে কেন এমন মাস্ক পরবেন না যেটা একই সঙ্গে সুরক্ষিত ও আরামদায়ক। মাস্কটি যেমন আমাদের প্রতিদিনের পোশাকের একটি প্রয়োজনীয় অংশ হয়ে উঠছে, তাহলে কেন আমরা অন্য পোশাকগুলোর মতো মাস্ককে আকর্ষণীয় করে তুলব না? এমন প্রশ্ন এখন উঠছে নানা মহলে।
ফ্যাশনসচেতন মানুষদের স্বস্তির খবর দিচ্ছে গ্লোবাল ও স্থানীয় বেশকিছু ব্র্যান্ড। কারণ তারা এমন আকর্ষণীয় মাস্ক সরবরাহ শুরু করেছে, যেগুলো মাস্ক ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। যাই হোক এগুলো ব্যবহারের সময় মাস্ক ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য অবশ্যই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। এর পাশাপাশি নকশা ও ডিজাইনের দিকে মনোযোগ দেয়া যেতে পারে।
কিছু ব্র্যান্ড সাম্প্রতিক প্রবণতাগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নিজেদের জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে ব্যবসা করতে পারে। তবে এমন অনেক ব্র্যান্ড আছে, যারা ব্যবসায়ের পরিবর্তে নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য বেশি আগ্রহী বলে মনে হয়। এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার কেবল ফ্যাশন পণ্যে পরিণত না হয়।
ইজিপশিয়ান স্ট্রিটস





