ভারতের মুম্বাইভিত্তিক অ্যাপোলো ও ফোর্টিস হাসপাতালের কনসাল্টিং এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডা. তেজাল লাথিয়া সম্প্রতি টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে ভিটামিন ‘ডি’জনিত বিষাক্ততা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। পরে তদন্তে দেখা গেছে, কভিড-১৯ ভয় থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দাবি করা একটি বার্তায় ওই রোগী প্রভাবিত হয়েছিলেন।

ডা. লাথিয়া বলেন, রোগী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছিলেন, ভিটামিন ডি কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। তবে সপ্তাহে একটি বড়ি খাওয়ার প্রস্তাবিত ডোজের পরিবর্তে তিনি দিনে একটি করে সেবন করেন। ভিটামিন ডির অতিরিক্ত উপস্থিতি রক্ত ও প্রস্রাবের ক্যালসিয়ামের স্তরকে বৃদ্ধি করতে পারে। ফলে বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি এবং অন্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে ঘুমের কারণ হতে পারে। রক্তের স্তরে ১৫০ এনজি/এমএলের চেয়ে বেশি ভিটামিন ডি বিষাক্ততার এ লক্ষণগুলো প্রকাশ ঘটায়। আর আমার রোগীর স্তর ছিল ৩৪৮ এনজি/এমএল, তবে ভাগ্যক্রমে খারাপ কিছু হয়নি।

মুম্বাইয়ের এ চিকিৎসক বলেন, আমার প্রায় সব রোগীই এমন বা অন্যভাবে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছেন। তাদের সর্বাধিক ব্যবহূত পণ্যগুলোর মধ্যে ছিল ঘরে তৈরি কাঢা, জিংক, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি ও হোমিওপ্যাথিক আর্সেনিকাম অ্যালবামের মতো ওষুধ।

যদিও এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া ডা. লাথিয়া একা নন। ভারতজুড়ে চিকিৎসকরা নতুন যুগের মেডিকেল ইমার্জেন্সির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, যেখানে হলুদ, মেথি বীজ, অ্যালোভেরা জুস, ভিটামিন ডি ট্যাবলেট বেশি খাওয়া জড়িত। এসব অপ্রমাণিত চিকিৎসা পদ্ধতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছিল এবং অনেক মানুষ এগুলো অনুসরণ করেছে।

কেরালার কোচিন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি গ্রুপের হেপাটোলজি অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাইরিয়াক অ্যাবি ফিলিপস বলেছেন, আমি ও আমার সহকর্মীরা প্রচুর রোগী দেখছি, যারা নিজের ইচ্ছামতো প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর তথাকথিত নিয়ম অনুসরণ করে। এগুলো গ্রহণের প্রধান কারণ হলো রোগীদের কভিড-১৯ আক্রান্তের ভয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সাম্প্রতিক পোস্টগুলো এমন অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো গ্রহণ করতে উৎসাহিত করছে। এছাড়া মেডিকেল প্র্যাকটিশনাররা করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদের মতো বিকল্প ওষুধ ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার মানুষকে আয়ুশ ও যোগব্যায়ামের মতো প্রাকৃতিক চিকিৎসা এবং ইউনানি, সোয়া রিগবা ও হোমিওপ্যাধি চিকিৎসা পরামর্শ অনুসরণ করতে বলেছেন। যেখানে হলুদ, মধু, আদার মতো ঘরোয়া প্রতিকারগুলো জড়িত।

কিন্তু অপ্রমাণিত এসব চিকিৎসা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কেরালাভিত্তিক চিকিৎসকের মতে, অত্যধিক মাত্রায় মেথির বীজ গ্রহণে রক্ত পাতলা হয়ে যায় এবং লিভারের অসুখ ছাড়াও তাদের ব্লিডিংয়ের মতো ঘটনাগুলো বিপজ্জনক হতে পারে। এজন্য তারা অতিরিক্ত মাত্রায় এগুলো গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

দ্য প্রিন্ট