একটি ওপেন সোর্স তদন্তে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটিকে সমর্থনকারী অন্তত অর্ধেক অ্যাকাউন্টই ভুয়া। ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্ট পরিচালিত এ তদন্তে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭৮টি টুইট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তদন্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রেট ব্যারিংটন ঘোষণার সমর্থনে একটি উচ্চস্তরের বটের (সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় বার্তা) মতো আচরণ পাওয়া গেছে।

কোনো অ্যাকাউন্ট অনেক বেশিসংখ্যক রিটুইটে জড়িত থাকলে এবং সেটা যথেষ্ট পরিমাণে বৈচিত্র্যময় না হলে তা বট হিসেবে চিহ্নিত হয়।

গ্রেট ব্যারিংটন ঘোষণার একটি অনুচ্ছেদে নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে হার্ড ইমিউনিটির ধারণার পক্ষে মত দিয়েছে। এটা কভিড-১৯ নিয়ে হোয়াইট হাউসের নীতিকে সমর্থন করছে এবং এখন পর্যন্ত ঘোষণাটিতে নয় হাজারের বেশি স্বাক্ষর সংগৃহীত হয়েছে। ঘোষণাপত্রে সুপারিশ করা হয়েছে, করোনাভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত মানুষগুলোকে অবশ্যই ভাইরাসটি থেকে রক্ষা করতে হবে। তবে বাকি মানুষদের কভিড-সম্পর্কিত বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি দেয়া যেতে পারে।

যদিও হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টের মধ্যেও ভিন্ন মত রয়েছে। অনেক বিজ্ঞানী নৈতিক ও ব্যবহারিক কারণে এ কৌশলটি খারিজ করে দিয়েছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বড় আকারের দুর্বল জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং নিম্ন ঝুঁকিতে থাকা মানুষের মাঝে লং কভিডের প্রভাবগুলো এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। অধ্যয়নটিতে পাওয়া গেছে, হার্ড ইমিউনিটি বিরোধী কথোপকথনের তুলনায় এ ঘোষণাপত্রকে সমর্থনকারী আলোচনাগুলো ‘স্বয়ংক্রিয়’ ও ‘কারসাজি’মূলক ছিল।

এ বিশ্লেষণটিতে টপিক মডেলিং নামের একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। এটা একটি টেস্ট-মাইনিং পদ্ধতি, যা আলাপে ব্যবহূত শব্দের পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ করে। কোনো আলোচনা থেকে উদ্ভূত সাধারণ ট্রেন্ডগুলো জানতে এ বিশ্লেষণটি ব্যবহূত হয়। গবেষকরা ব্যারিংটন, ব্যারিংটন ঘোষণা ও ফোকাস সুরক্ষার মতো শব্দগুলো সন্ধান করেন।

গবেষণাটি বলছে, বট শনাক্তকরণ বিশ্লেষণ পরিচালনা করার সময় আমরা আবিষ্কার করেছি, গ্রেট ব্যারিংটন ঘোষণার আশপাশের প্রায় ৪৫ শতাংশ বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যার চালিত ছিল। এ সংখ্যাটি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। টুইটারে সক্রিয় ব্যবহারকারীদের মধ্যে গড়ে ৯ থেকে ১৫ শতাংশের বট অ্যাকাউন্ট রয়েছে। অন্যদিকে হার্ড ইমিউনিটির মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের কৌশলটির বিরোধিতা করা আলোচনাগুলো অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও জৈব ছিল।

গবেষকরা বলেন, গ্রেট ব্যারিংটনের ঘোষণাপত্রের কৃত্রিম প্রমোশন থেকে স্পষ্ট যে বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতের বাইরে গিয়ে হার্ড ইমিউনিটি অ-বিশেষজ্ঞদের সমর্থন পাচ্ছে।

হার্ড ইমিউনিটি হলো জনসংখ্যার একটি উচ্চ অংশ যখন একটি রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে, ফলে রোগটি আর সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর থেকে এ হার্ড ইমিউনিটি সবচেয়ে বিতর্কিত একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কভিডে সংক্রমণের পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে হার্ড ইমিউনিটি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

দ্য প্রিন্ট