নভেল করোনাভাইরাস ব্যক্তি থেকে শুরু করে বাণিজ্য ও সরকার পর্যন্ত যেমন হতভম্ব করে দিয়েছে, তেমনি উদ্বেগ ও ভয়ের অনুভূতিগুলোকে সংসদ থেকে ঘর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষদের সহায়তায় সমাজসেবীরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এজন্য বলা হচ্ছে, আসলে মানবপ্রীতিকে উৎসাহিত করছে নভেল করোনাভাইরাস।

মার্চের শুরুতে খবর পাওয়া গেছে নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সমাজসেবীদের দানের পরিমাণ অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে পুরো বিশ্বে এ দানের পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ইবোলাতে ৩৬২ মিলিয়ন ও হারিকেনে ৩৪১ মিলিয়ন বা অন্য যেকোনো বিপর্যয়ে দানের চেয়ে এ পরিমাণ অবশ্যই অনেক বেশি। তবে নভেল করোনাভাইরাস সংকটের মাত্রাও এর আগে দেখা যেকোনো বিপর্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ।

ধনী উদ্যোক্তা পরিবার, ব্যবসায়ী যৌথ প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী যেকোনো বিপর্যয়ে অনুদান দিয়ে থাকে। তবে ধনী উদ্যোক্তা পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি দান করে থাকে। এ জাতীয় দান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে অসাধারণ কার্যকর হতে পারে। কারণ পারিবারিক ব্যবসাগুলো অন্য সংস্থাগুলোর তুলনায় দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর করতে পারে। অন্যদিকে কোনো সংস্থা বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে দানের পরিমাণ ও ছাড়ের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে হয়, যেটা সময়সাপেক্ষ।

নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের খাদ্যসহায়তায় এরই মধ্যে পরিবারগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কোনো পরিবার হাসপাতালের আইসিইউ সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করছে, কোনো পরিবার তার সম্প্রদায়ের মধ্যে খাদ্য ও ওষুধ সহায়তা দিচ্ছে, আবার কোনো পরিবার হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও পিপিইর মতো মেডিকেল সরঞ্জাম বিতরণ করছে। আর এ সংকটময় পরিস্থিতিই তাদের মানবপ্রেমে উৎসাহিত করছে।

উদাহরণস্বরূপ, গাড়ি শিল্পের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি ইতালীয় আগ্নেলি পরিবার ইতালির নাগরিক সুরক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য সংস্থা ও সামাজিক সহায়তা প্রদানকারী স্থানীয় সংস্থাগুলোকে ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে। এছাড়া পরিবারটি তাদের সংস্থাগুলোকে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা, খাদ্য ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ এবং স্কুলে দূর থেকে শিক্ষার প্রকল্পগুলোতে সহায়তা করার জন্য সরাসরি জড়িত করেছে।

ফ্রান্সের বিলাসবহুল পণ্য প্রস্তুতকারক ক্রিস্টিয়ান ডিওর, গিভেন্সি ও বুলগারি একসঙ্গে হয়ে বৃহৎ আকারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনের জন্য তাদের তিনটি প্রসাধনী কারখানাকে ব্যবহার করছে। এগুলো ফ্রান্সের হাসপাতালে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সংস্থাগুলো স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য চার কোটি সার্জিক্যাল মাস্ক সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইতালির একটি বিলিয়নেয়ার দল তাদের দেশে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ অনুদান দিয়েছে। আগে থেকে করোনাভাইরাসে ধ্বংসাত্মক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করা বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে অন্যতম বিল গেটস পুরো বিশ্বে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চীনের শীর্ষ ধনী জ্যাক মা তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ভ্যাকসিন তৈরিতে ১১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ৫ লাখ টেস্ট কিট ও ১০ লাখ মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন বলেও জানা গেছে।

দ্য কনভারসেশন