সংক্রামক রোগ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্টনি ফউসি। রোববার তিনি জানিয়েছেন, দেশটির কিছু অংশে মে মাসের শুরুর দিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যম্ভাবীভাবে যারা আক্রান্ত হবেন তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হবে।
ডা. অ্যান্টনি ফউসি অবশ্য নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আশার কথা শোনাতে পারেননি। তিনি বলেছেন, ৩ নভেম্বর নির্বাচনে সশরীরে ভোট দেয়াটা আমেরিকানদের জন্য নিরাপদ হবে কিনা, সে বিষয়ে তিনি কোনো ‘নিশ্চয়তা’
দিতে পারছেন না।
পুরো যুক্তরাষ্ট্রে একযোগে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উন্মুক্ত করার পরিবর্তে ডা. ফউসি পরামর্শ দিয়েছেন ধাপে ধাপে এগোতে। বিভিন্ন অঞ্চলে কভিড-১৯ মহামারীর পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষার সুবিধা নিশ্চিতকরণের ওপর ভিত্তি করে এলাকাভিত্তিক কর্মকাণ্ড চালু করতে হবে। ফউসি বলেছেন, বেশি অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেলে কর্মকর্তারা ‘ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে ভাবতে পারেন, তবে এই শুরুটা হবে ধীরে ধীরে এবং ধাপে ধাপে।’
কিছু কিছু অঞ্চলে এটা মে মাসের শুরুর দিকেই করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। ‘আমরা আশা করছি যে এ মাসের শেষের দিকে আমরা একটু ঘুরে দাঁড়াব এবং বলতে পারব, ঠিক আছে দেখা যাক এখানে এমন কোনো সুযোগ আছে কিনা যে আমরা সতর্কভাবেই নিরাপদে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারি? যদি থাকে, তাহলে শুরু করা যাক। আর তা না হলে ঘরেই থাকতে হবে।’
ফউসি বলেন, আমরা জানি বিধিনিষেধ উঠে গেলে নতুন করে কিছু মানুষ আক্রান্ত হবে। আমি বলতে চাইছি এটাই বাস্তবতা।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা শেষ হবে ৩০ এপ্রিল। ট্রাম্প দেশটির অর্থনীতিকে দ্রুতই সচল করতে আগ্রহী। করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে মার্কিনরা এখন ঘরে থাকার নির্দেশনা পালন করছেন। আর স্বাভাবিকভাবেই তাতে দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে।
তবে কোনো রাজ্যে বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় গভর্নরের মতামতকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করতে হবে। এরই মধ্যে মেরিল্যান্ড ও নিউ জার্সির নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ব্যাপকভাবে কভিড-১৯ পরীক্ষার সুবিধা নিশ্চিত না হলে তারা বিধিনিষেধ শিথিল করার পক্ষে নন। নিউ জার্সির গভর্নর ফিল মার্ফি বলেছেন, বেশি আগেভাগে সবকিছু চালু করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। ‘আমার ভয় বেশি তাড়াতাড়ি সব খুলে দিলে আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়টি আমরা সামলাতে পারব না, ভাইরাসে কোমর ভেঙে দেয়া যাবে না। ব্যাপারটা হবে আগুনে গ্যাসোলিন ঢালার মতো।’
ডা. ফউসির কথা, পরীক্ষার সুবিধা বৃদ্ধি করলে কর্তৃপক্ষ নতুন আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করতে পারবে। ফউসি বলেছেন, ট্রাম্প পরীক্ষা করার সুবিধার অপ্রতুলতা ও সময়সাপেক্ষ ফলাফল পাওয়ার সমস্যাটি অনেকদিন ধরেই আমলে নিতে চাইছেন না। সপ্তাহখানেক আগেও ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায়ই সেভাবে পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের আরো অনেক বিজ্ঞানীই ফউসির মতামতকে সমর্থন করেছেন। তারাও মনে করেন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধাপে ধাপে উন্মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধিনিষেধ শিথিল আবার কঠোর করতে হবে।
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. ক্রিস্টোফার মারে বলেছেন, তাদের গবেষণা বলছে এ মাসের শেষে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে যাবে। এত বেশিসংখ্যক রোগী অনেক রাজ্য সামলাতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই বা আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আবার বর্তমান পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে।’
মারে বলেছেন, প্রশাসনকে দেখতে হবে কোনো রাজ্য সংক্রমণের চরম বিন্দুতে পৌঁছেছে কিনা, তারপর পরীক্ষা সুবিধা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহ বিধিবিষেধ অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘কিছু রাজ্য হয়তো মে মাসের মাঝামাঝি সব খুলে দিতে পারবে। তবে আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে।’
বছরের শেষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সশরীরে ভোট দেয়ার বিষয়ে ডা. ফউসি মনে করেন, যথাযথভাবে মোকাবেলা করা গেলে নভেম্বরে নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। হয়তো সবাই সশরীরে ভোট দিতে পারবেন। তবে আরো যোগ করেন, ‘আমি হতাশাবাদী হতে চাই না। সবসময়ই ভালো কিছুর সম্ভাবনা থাকে।’
টাইম ম্যাগাজিন





