করোনাভাইরাসের কারণে স্ট্রোক হওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে কম বয়সী রোগী ওমর টেইলর। ৩১ বছর বয়সী টেইলর করোনাভাইরাস, নিউমোনিয়া, সেপসিস, শ্বাসকষ্ট ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ব্রিটেনের কোলচেস্টার জেনারেল হাসপাতালে ছয় সপ্তাহ ধরে চিকিৎসা নিয়েছেন। এত জটিল অবস্থায় থাকার পরও তার সেরে ওঠা চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের অবাক করে দিয়েছিল।
হাসপাতাল ছাড়ার সময় চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্ককে অলৌকিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দুই সন্তানের বাবা টেইলরের মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করেছেন চিকিৎসকরা। গবেষণা প্রতিবেদনটি ব্রিটিশ জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত হয়।
টেইলর জানিয়েছেন, তিনি আশাবাদী তার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ রোগীদের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে। ঘটনাটি চিকিৎসকদের মস্তিষ্কে করোনাভাইরাসের প্রভাব বুঝতে সহায়তা করেছে। টেইলরকে যত্ন নেয়া স্ট্রোকবিষয়ক পরামর্শক ও গবেষণা প্রতিবেদনটির সহলেখক ডা. জোসেফ নেগ বলেছেন, করোনাভাইরাসে স্ট্রোক হওয়া মেডিকেল জগতের সবচেয়ে কম বয়সী রোগী ওমর। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল এবং খুব কাছ থেকে দেখা ঘটনাটি আমি সারা জীবন মনে রাখব। ভাইরাসটি নিয়ে প্রতিদিন আমরা নতুন নতুন বিষয় শিখছি। এখন আমরা জানি ভাইরাসটি প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এটা ওমরের মতো কম বয়সী রোগীদের জন্যও স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
ডা. জোসেফ বলেন, তার সবচেয়ে মারাত্মক স্ট্রোক হয়েছিল, যা আপনারও হতে পারে এবং তার মস্তিষ্কের দুই পাশেই ভাইরাসটি আক্রমণ করেছিল। এ ধরনের স্ট্রোকের পর বেশির ভাগ রোগীর ২৪ ঘণ্টাই যত্ন নেয়া প্রয়োজন।
টেইলর বিবিসিকে বলেছেন, আমি অত্যন্ত খুশি যে চিকিৎসকদের দলটি আমাকে নিয়ে এতটা আগ্রহী ছিল। আমি আশা করি, ভবিষ্যতের চিকিৎসকরা এমন গুরুতর রোগীর উপকার করতে পারবেন এবং তারা আমার মতো জীবন বাঁচাতে পারবেন।
হাসপাতালের স্ট্রোক ইউনিটে স্থানান্তর এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে তিনি ২০ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) একটি ভেন্টিলেটরে কাটিয়েছেন। তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করার মতো সামর্থ্যও তার পরিবারের ছিল না। তার চিকিৎসার জন্য বন্ধুদের মাধ্যমে তৈরি একটি তহবিলে ১৯ হাজার ডলার সংগৃহীত হয়। এ অর্থ দিয়ে কোলচেস্টারের কাছে রোহেজে বাড়িতে প্রতিদিন তিনি থেরাপি নিচ্ছেন।
হাসপাতালে নার্স হওয়ার প্রশিক্ষণ নেয়া তার স্ত্রী ক্যাটলিন জানিয়েছেন, তিনি তার স্বামীর জন্য অবিশ্বাস্যভাবে গর্বিত। এখনো তার ডান হাত অনেক দুর্বল এবং তাকে অনেক কম কথা বলতে হচ্ছে। তবে সত্যিই তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি রোগের বিরুদ্ধে কঠোর পরিশ্রম করছেন।
ওমর টেইলর শিগগিরই কেয়ার ইউকের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে তার চাকরিতে ফিরতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিবিসি





