করোনাভাইরাস যুগের প্রথম দুর্ভিক্ষ শিগগিরই বিশ্বের চারটি দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যবঞ্চিত অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির শীর্ষ একজন কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদান, উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়া ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।
জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্যদের প্রতি লেখা একটি চিঠিতে মার্ক লোকক বলেছেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অর্থনৈতিক ধাক্কা ও জনস্বাস্থ্য সংকট এ অঞ্চলগুলোতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আরো তীব্র করেছে। এ কারণগুলো লাখ লাখ নারী, পুরুষ ও শিশুদের জীবনকে বিপন্ন করছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এর আগে বলেছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাত এবং মানবিক ত্রাণ সরবরাহকারীদের অবাধে সহায়তা বিতরণ করতে না পারার কারণে চারটি অঞ্চলই তীব্র খাদ্য সংকটের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এপ্রিল মাসে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলি সুরক্ষা কাউন্সিলকে সতর্ক করেছিলেন, বিশ্ব যখন করোনাভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে, তখন আমরা ক্ষুধার মহামারীর কিনারায় রয়েছি।
এ সতর্ক বার্তাটিকে আরো জোরদার করে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি লোকক বলেন, জরুরি ত্রাণ তহবিলের অভাব এবং করোনাভাইরাস বিপর্যয়ের কারণে সৃষ্ট জটিলতাগুলো এখন বিশ্বের সবচেয়ে অভাবী জনগোষ্ঠীকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ক্ল্যাসিফিকেশন বা আইপিসি স্কেলে জরুরি ক্ষুধা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়। পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অধীনে ফেজ ৩ অর্থ হলো একটি সংকট, ফেজ ৪ হলো জরুরি অবস্থা এবং ফেজ ৫ হলো দুর্ভিক্ষ। ফেজ ৫ হলো সবচেয়ে খারাপ অবস্থা; অনাহার, মৃত্যু, দরিদ্রতা ও চরমভাবে চিহ্নিত তীব্র অপুষ্টির মাত্রা।
ইয়েমেনে মাত্র দুই বছর আগে দুর্ভিক্ষ রোধ করা হয়েছিল। যদিও এখন ঝুঁকি ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্রতম এ দেশটি পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি সমর্থিত সামরিক জোটের মধ্যকার গ্রহযুদ্ধে বিধ্বস্ত। দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষ বাইরের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
লোকক বলেছেন, ইয়েমেনের মুদ্রা মূলত ধসে গেছে, অন্যদিকে খাদ্য ব্যয় বেড়েছে এবং বিশুদ্ধ পানির দাম এপ্রিল থেকে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। দেশটি এখন দুর্ভিক্ষের এক ধাপ আগে অর্থাৎ ফেজ ৪-এ রয়েছে। এদিকে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্ব অংশে কয়েক দশকের মধ্যে এ বছর দ্বন্দ্ব বেড়েছে। সেখানকার ২১ মিলিয়ন মানুষ খাদ্যনিরাপত্তার সংকট বা খারাপ স্তরে জীবনযাপন করছে।
জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা বলেন, উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার রাজ্য বর্নো, অ্যাডামাওয়া ও ইয়েবের অঞ্চলগুলোতে সশস্ত্র চরমপন্থী জঙ্গিদের দ্বারা বিভক্ত এবং সেখানকার ১০ মিলিয়নের বেশি লোকের মধ্যে পাঁচজনের চারজনকে মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষার প্রয়োজন। এছাড়া সাত বছরের গৃহযুদ্ধ দক্ষিণ সুদানের ১ দশমিক ৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে সংকট বা ভয়াবহ স্তরের খাদ্যনিরাপত্তার মুখোমুখি করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস





